বুখারী শরীফের বিয়ের সহিহ হাদিসসমূহ

বিবাহ ও দাম্পত্য বিষয়ে বুখারী শরীফের সহিহ হাদিসসমূহ

বিবাহ ও দাম্পত্য

পরিচ্ছেদঃ বিবাহের গুরুত্ব

(২৫৩৯) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন, হে যুবকদল! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি (বিবাহের অর্থাৎ স্ত্রীর ভরণপোষণ ও রতিক্রিয়ার) সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কারণ, বিবাহ চক্ষুকে দস্ত্তরমত সংযত করে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে। আর যে ব্যক্তি ঐ সামর্থ্য রাখে না সে যেন রোযা রাখে। কারণ, তা যৌনেন্দ্রিয় দমনকারী।

عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ لَنَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ

عن عبد الله قال قال لنا رسول الله ﷺ يا معشر الشباب من استطاع منكم الباءة فليتزوج فانه اغض للبصر واحصن للفرج ومن لم يستطع فعليه بالصوم فانه له وجاء
(বুখারী ৫০৬৫-৫০৬৬, মুসলিম ৩৪৬৪-৩৪৬৬, মিশকাত ৩০৮০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ‌ ইব্‌ন মাসউদ (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৪০
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের গুরুত্ব

(২৫৪০) আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিবাহ করা আমার সুন্নাত (তরীকা)। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত (তরীকা) অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়।

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِى فَمَنْ لَمْ يَعْمَلْ بِسُنَّتِى فَلَيْسَ مِنِّى

عن عاىشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم النكاح من سنتى فمن لم يعمل بسنتى فليس منى
(ইবনে মাজাহ ১৮৯৬, সহীহ সনদে)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৪১
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের গুরুত্ব

(২৫৪১) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বান্দা যখন বিবাহ করে তখন সে তার অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করে নেয়। অতএব তাকে তার অবশিষ্ট অর্ধেক দ্বীনের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করা উচিত।

عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِذَا تَزَوَّجَ الْعَبْدُ فَقَدْ اِسْتَكْمَلَ نِصْفَ الّدِيْنِ فَلْيَتَّقِ اللهَ فِى النِّصْفِ الْبَاقِى

عن انس عن النبي ﷺ قال اذا تزوج العبد فقد استكمل نصف الدين فليتق الله فى النصف الباقى
(বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৫৪৮৬, সহীহুল জামে’ ৪৩০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৪২
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের গুরুত্ব

(২৫৪২) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বিবাহ করে, সে তার অর্ধেক ঈমান পূর্ণ করে, অতএব বাকী অর্ধেকাংশে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।

عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ مَنْ تَزَوَّجَ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ نِصْفَ الإِيمَانِ فَلْيَتَّقِ الله في النِّصْفِ الْبَاقِي

عن انس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم من تزوج فقد استكمل نصف الايمان فليتق الله في النصف الباقي
(ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৭৬৪৭, ৮৭৯৪, সহীহুল জামে’ হা/ ৬১৪৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৪৩
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের গুরুত্ব

(২৫৪৩) আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহর দায়িত্ব; আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী মুজাহিদ, সেই ক্রীতদাস যে নিজেকে স্বাধীন করার জন্য তার প্রভুকে কিস্তিতে নির্দিষ্ট অর্থ দেওয়ার চুক্তি লিখে সেই অর্থ আদায় করার ইচ্ছা করে এবং সেই বিবাহকারী যে বিবাহের মাধ্যমে (অবৈধ যৌনাচার হতে) নিজের চরিত্রের পবিত্রতা কামনা করে।

عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ ثَلاَثةٌ حَقٌّ عَلَى الله تَعَالَى عَوْنُهُمْ المُجاهِدُ في سَبِيْلِ الله والمُكاتَبُ الَّذِي يُرِيدُ الأَداءَ والنَّاكِحُ الَّذِي يِرِيدُ العَفافَ

عن ابـي هريرة عن النبي ﷺ قال ثلاثة حق على الله تعالى عونهم المجاهد في سبيل الله والمكاتب الذي يريد الاداء والناكح الذي يريد العفاف
(আহমাদ ৭৪১৬, তিরমিযী ১৬৫৫, নাসাঈ ৩১২০, ৩২১৮, ইবনে মাজাহ ২৫১৮, বাইহাক্বী, হাকেম, সহীহুল জামে ৩০৫০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৪৪
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের গুরুত্ব

(২৫৪৪) ইবনে আব্বাস (রাঃ) সাঈদ বিন জুবাইরকে বলেছিলেন, ’বিবাহ কর। কারণ এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, যার সবার চেয়ে বেশি স্ত্রী।’ অথবা ’এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সবার চেয়ে বেশি স্ত্রী ছিল।

عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ قَالَ لِيْ ابْنُ عَبَّاسٍ هَلْ تَزَوَّجْتَ قُلْتُ لَا قَالَ فَتَزَوَّجْ فَإِنَّ خَيْرَ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَكْثَرُهَا نِسَاءً

عن سعيد بن جبير قال قال لي ابن عباس هل تزوجت قلت لا قال فتزوج فان خير هذه الامة اكثرها نساء
(আহমাদ ২০৪৮, বুখারী ৫০৬৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৪৫
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের গুরুত্ব

(২৫৪৫) সা’দ বিন আবী অক্কাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সৌভাগ্যের স্ত্রী সেই; যাকে দেখে স্বামী মুগ্ধ হয়। সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকে। আর দুর্ভাগার স্ত্রী হল সেই; যাকে দেখে স্বামীর মন তিক্ত হয়, যে স্বামীর উপর জিভ লম্বা করে (লানতান করে) এবং সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে ঐ স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে সে নিশ্চিন্ত হতে পারে না।

عَنْ سَعْدِ بْنِ وَقَّاصٍ : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ فَمِنَ السَّعَادَةِ الْمَرْأَةُ تَرَاهَا تُعْجِبُكَ وَ تَغِيْبُ فَتَأْمَنُهَا عَلَى نَفْسِهَا وَ مَالِكَ مِنَ الشَّقَاوَةِ اَلْمَرْأَةُ تَرَاهَا فَتَسُوْءُكَ وَ تَحْمِلُ لِسَانَهَا عَلَيْكَ وَ إِنْ غِبْتَ عَنْهَا لَمْ تَأْمَنْهَا عَلَى نَفْسِهَا وَ مَالِكَ

عن سعد بن وقاص : ان رسول الله صلى الله عليه و سلم قال فمن السعادة المراة تراها تعجبك و تغيب فتامنها على نفسها و مالك من الشقاوة المراة تراها فتسوءك و تحمل لسانها عليك و ان غبت عنها لم تامنها على نفسها و مالك
(হাকেম ২৬৮৪, সিলসিলাহ সহীহাহ ১০৪৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৪৬
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৪৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হল, ’কোন্ স্ত্রী সর্বশ্রেষ্ঠ?’ তিনি বললেন, শ্রেষ্ঠ স্ত্রী সেই, যার প্রতি তার স্বামী দৃকপাত করলে সে তাকে খোশ করে দেয়, কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং তার জীবন ও সম্পদে স্বামীর অপছন্দনীয় বিরুদ্ধাচরণ করে না।

عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ ﷺ أَيُّ النِّسَاءِ خَيْرٌ؟ قَالَ الَّتِي تَسُرُّهُ إِذَا نَظَرَ إِلَيْهَا وَتُطِيعُهُ إِذَا أَمَرَ وَلَا تُخَالِفُهُ فِيمَا يَكْرَهُ فِي نَفْسِهَا وَلَا فِي مَالِهِ

عن ابـي هريرة عن النبي ﷺ قال: سىل النبي ﷺ اي النساء خير؟ قال التي تسره اذا نظر اليها وتطيعه اذا امر ولا تخالفه فيما يكره في نفسها ولا في ماله
(আহমাদ ৯৫৮৭, নাসাঈ ৩২৩১, হাকেম ২৬৮২, বাইহাক্বী ১৩২৫৫, সিলসিলাহ সহীহাহ ১৮৩৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৪৭
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৪৭) সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের প্রত্যেককে কৃতজ্ঞ হৃদয়, (আল্লাহর) যিকরকারী জিহ্বা এবং আখেরাতের কাজে সহায়িকা মুমিন স্ত্রী গ্রহণ করা উচিত।

عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قَالَ النبي ﷺ لِيَتَّخِذْ أَحَدُكُمْ قَلْبًا شَاكِرًا وَلِسَانًا ذَاكِرًا وَزَوْجَةً تُعِينُهُ عَلٰى أَمْرِ الْآخِرَةِ

عن ثوبان قال قال النبي ﷺ ليتخذ احدكم قلبا شاكرا ولسانا ذاكرا وزوجة تعينه على امر الاخرة
(আহমাদ ২২৪৩৭, ইবনে মাজাহ ১৮৫৬, সহীহ সনদে)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ সাওবান (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৪৮
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৪৮) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নারীর অন্যতম বরকত এই যে, তার পয়গাম সহজ হবে, তার মোহর স্বল্প হবে এবং তার গর্ভাশয় সন্তানময় হবে।

عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ مِنْ يُمْنِ الْمَرْأَةِ تَيْسِيرَ خِطْبَتِهَا وَتَيْسِيرَ صَدَاقِهَا وَتَيْسِيرَ رَحِمِهَا

عن عاىشة ان رسول الله ﷺ قال ان من يمن المراة تيسير خطبتها وتيسير صداقها وتيسير رحمها
(আহমাদ ২৪৪৭৮, হাকেম ২৭৩৯, বাইহাক্বী ১৪৭৪৬, সহীহুল জামে’ হা/ ২২৩৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৪৯
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৪৯) আবূ উযাইনাহ স্বাদাফী থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ স্ত্রী সে, যে প্রেমময়ী, অধিক সন্তানদাত্রী, যে (স্বামীর) সহমত অবলম্বন করে, (স্বামীকে বিপদেশোকে) সান্ত্বনা দেয় এবং সেই সাথে আল্লাহর ভয় রাখে।

عَنْ أَبِى أُذَيْنَةَ الصَّدَفِىِّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ خَيْرُ نِسائِكُمُ الوَلُودُ الوَدُودُ المُواسِيةُ المُواتِيَةُ إذا اتَّقَيْنَ الله

عن ابى اذينة الصدفى ان رسول الله ﷺ قال خير نساىكم الولود الودود المواسية المواتية اذا اتقين الله
(বাইহাক্বী ১৩২৫৬, সহীহ জামে ৩৩৩০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৫০
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৫০) সা’দ বিন আবী অক্কাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষের জন্য সুখ ও সৌভাগ্যের বিষয় হল চারটি; সাধ্বী স্ত্রী, প্রশস্ত বাড়ি, সৎ প্রতিবেশী এবং সচল সওয়ারী (গাড়ি)। আর দুখ ও দুর্ভাগ্যের বিষয়ও চারটি; অসৎ প্রতিবেশী, অসতী স্ত্রী, সংকীর্ণ বাড়ি এবং খারাপ সওয়ারী (গাড়ি)।

وَعَن سَعدِ بنِ أَبِـيْ وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعٌ مِنَ اَلسعَادَةِ : الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ وَالْمَسْكَنُ ألوَاسِعُ وَاَلجَارُ الصَّالِحُ وَالْمَرْكَبُ اَلهَنِيءُ وَأَرْبَغ مِنَ اَلشًقَاوَةِ : اَلْجَارُ السُّوءُ وَألْمَرْأَةُ اَلسُّوءُ وَالْمَسْكَنُ اَلضيقُ وَالْمَرْكَبُ السُّوءُ

وعن سعد بن ابـي وقاص قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اربع من السعادة : المراة الصالحة والمسكن الواسع والجار الصالح والمركب الهنيء واربغ من الشقاوة : الجار السوء والمراة السوء والمسكن الضيق والمركب السوء
(ইবনে হিব্বান ৪০৩২, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৯৫৫৬, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৮২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৫১
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৫১) আবূ সাঈদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুমিন ছাড়া কারো সঙ্গী হয়ো না এবং পরহেযগার ব্যক্তি ছাড়া তোমার খাদ্য যেন অন্য কেউ না খেতে পায়।

عَنْ أَبِى سَعِيدٍ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ لاَ تُصَاحِبْ إِلاَّ مُؤْمِنًا وَلاَ يَأْكُلْ طَعَامَكَ إِلاَّ تَقِىٌّ

عن ابى سعيد عن النبى ﷺ قال لا تصاحب الا مومنا ولا ياكل طعامك الا تقى
(আহমাদ, আবূ দাঊদ ৪৮৩৪, তিরমিযী ২৩৯৫, হাকেম)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৫২
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৫২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহিলার চারটি জিনিস দেখে বিবাহ করা হয়; তার সম্পদ, উচ্চ বংশ, রূপ ও দ্বীন দেখে। তুমি দ্বীনদার মহিলা পেতে সফল হও, তোমার হাত ধূলিধূসরিত হোক।

عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لأَرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَلِجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ

عن ابـى هريرة عن النبى ﷺ قال تنكح المراة لاربع لمالها ولحسبها ولجمالها ولدينها فاظفر بذات الدين تربت يداك
(বুখারী ৫০৯০, মুসলিম ৩৭০৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৫৩
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৫৩) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুনিয়া (তার সবকিছু) উপভোগ্য বস্তু। আর দুনিয়ার উপভোগ্য বস্তুসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বস্তু হল পুণ্যময়ী স্ত্রী।

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَخَيْرُ مَتَاعِ الدُّنْيَا الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ

عن عبد الله بن عمرو ان رسول الله ﷺ قال الدنيا متاع وخير متاع الدنيا المراة الصالحة
(মুসলিম ৩৭১৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৫৪
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৫৪) আনাস বিন মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ যাকে পুণ্যময়ী স্ত্রী দান করেছেন, তাকে তার অর্ধেক দ্বীনে সাহায্য করেছেন। সুতরাং বাকী অর্ধেকের ব্যাপারে তার আল্লাহকে ভয় করা উচিত।

عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ مَنْ رَزَقَهُ الله امْرَأَةً صَالِحَةً فَقَدْ أَعَانَهُ عَلٰى شَطْرِ دِينِهِ فَلْيَتَّقِ الله فِي الشَّطْرِ الْبَاقِي

عن انس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم من رزقه الله امراة صالحة فقد اعانه على شطر دينه فليتق الله في الشطر الباقي
(ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৯৭২, হাকেম ২৬৮১, বাইহাক্বী, সঃ তারগীব ১৯১৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৫৫
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৫৫) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহিলা যখন তার পাঁচ ওয়াক্তের নামায আদায় করে, তার রমযান মাসের রোযা পালন করে, (অবৈধ যৌনাচার থেকে) তার যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে এবং তার স্বামীর কথা ও আদেশমত চলে, তখন তাকে বলা হয়, জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা তুমি সেই দরজা দিয়েই জান্নাতে প্রবেশ কর।

عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ إِذَا صَلَّتِ المَرْأةُ خَمْسَها وَصَامَتْ شَهْرَها وَحَصَّنَتْ فَرْجَها وأطاعَتْ زَوْجَهَا قِيلَ لَها أدْخُلِي الجَنَّة مِنْ أيِّ أبْوابِ الجَنَّةِ شِئْتِ

عن ابـي هريرة رضي الله قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم اذا صلت المراة خمسها وصامت شهرها وحصنت فرجها واطاعت زوجها قيل لها ادخلي الجنة من اي ابواب الجنة شىت
(ইবনে হিব্বান ৪১৬৩, সহীহুল জামে’ ৬৬০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৫৬
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৫৬) কা’ব বিন উজরাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের জান্নাতী স্ত্রীদের সম্পর্কে কি তোমাদেরকে জ্ঞাত করব না? যে স্ত্রী অধিক প্রণয়িণী, সন্তানদাত্রী, বার-বার ভুল করে বার-বার স্বামীর নিকট আত্মসমর্পণকারিণী, (যার স্বামী রাগ করলে অথবা) যে অত্যাচারিতা হলে, সে তার নিকট এসে তার হাতে হাত রেখে বলে, আপনি রাজি (ঠাণ্ডা) না হওয়া পর্যন্ত আমি ঘুমাবই না।

عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ أَلَا أُخْبِرُكمْ بِنِسائِكمْ مِنْ أهْلِ الجَنَّةِ الوَدُودُ الوَلودُ العؤودُ الّتِي إذا ظُلِمَتْ قالَتْ هذِهِ يَدِي في يَدِكَ لا أذُوقُ غَمْضاً حَتّٰـى تَرْضَى

عن كعب بن عجرة قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم الا اخبركم بنساىكم من اهل الجنة الودود الولود العوود التي اذا ظلمت قالت هذه يدي في يدك لا اذوق غمضا حتـى ترضى
(ত্বাবারানীর কাবীর ১৫৬৩৭, আওসাত্ব ৫৬৪৮, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৮৭৩২, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৮৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৫৭
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৫৭)মা’ক্বিল বিন য়্যাসার কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অধিক প্রেমময়ী, অধিক সন্তানদাত্রী রমণী বিবাহ কর। কারণ, আমি তোমাদেরকে নিয়ে কিয়ামতে অন্যান্য উম্মতের সামনে (সংখ্যাধিক্য নিয়ে) গর্ব করব।

عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ قال قَالَ النبي ﷺ تَزَوَّجُوا الْوَدُودَ الْوَلُودَ فَإِنِّى مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ

عن معقل بن يسار قال قال النبي ﷺ تزوجوا الودود الولود فانى مكاثر بكم الامم
(আবূ দাঊদ ২০৫২, নাসাঈ ৩২২৭, মিশকাত ৩০৯১, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৩ ৮৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ মা‘ক্বিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৫৮
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৫৮) একাধিক সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কুমারী বিবাহ কর। কারণ কুমারীদের মুখ অধিক মিষ্টি, তাদের গর্ভাশয় অধিক সন্তানধারী, তাদের যোনীপথ অধিক উষ্ণ, তারা ছলনায় কম হয় এবং স্বল্পে অধিক সন্তুষ্ট থাকে।

عَلَيْكُمْ بِالأَبْكَارِ فَإِنَّهُنَّ أَعْذَبُ أَفْوَاهًا وَأَنْتَقُ أَرْحَامًا وَأَرْضَى بِالْيَسِيرِ عَلَيْكُمْ بِالأَبْكَارِ فَإِنَّهُنَّ أَعْذَبُ أَفْوَاهاً وَأَنْتَقُ أَرْحَاماً وَأَسْخَنُ أَقْبَالاً وَأَرْضَى بِالْيَسِيرِ مِنَ العَمَلِ عَلَيْكُمْ بِالأَبْكَارِ فَإِنَّهُنَّ أَنْتَقُ أَرْحَاماً وَأَعْذَبُ أَفْوَاهاً وَأَقَلُّ خِبّاً وَأَرْضَى بِالْيَسِيرِ
عليكم بالابكار فانهن اعذب افواها وانتق ارحاما وارضى باليسير عليكم بالابكار فانهن اعذب افواها وانتق ارحاما واسخن اقبالا وارضى باليسير من العمل عليكم بالابكار فانهن انتق ارحاما واعذب افواها واقل خبا وارضى باليسير

(ইবনে মাজাহ ১৮৬১, ইবনুস সুন্নী, ত্বাবারানী, সিঃ সহীহাহ ৬২৩, সহীহুল জামে’ হা/ ৪০৫৩)
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৫৯) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের নিকট যখন এমন ব্যক্তি (বিবাহের পয়গাম নিয়ে) আসে; যার দ্বীন ও চরিত্রে তোমরা মুগ্ধ তখন তার সাথে (মেয়ের) বিবাহ দাও। যদি তা না কর তাহলে পৃথিবীতে ফিৎনা ও মহাফাসাদ সৃষ্টি হয়ে যাবে।

عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَتَاكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ خُلُقَهُ وَدِينَهُ فَزَوِّجُوهُ إِلاَّ تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيضٌ

عن ابـي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اتاكم من ترضون خلقه ودينه فزوجوه الا تفعلوا تكن فتنة في الارض وفساد عريض
(তিরমিযী ১০৮৪, ইবনে মাজাহ ১৯৬৭, মিশকাত ৩০৯০, সিঃ সহীহাহ ১০২২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৬০
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৬০) মুআয জুহানী থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে কিছু দান করে, কিছু দেওয়া হতে বিরত থাকে, কাউকে ভালোবাসে অথবা ঘৃণাবাসে এবং তাঁরই সন্তুষ্টিলাভের কথা খেয়াল করে বিবাহ দেয়, তার ঈমান পূর্ণাঙ্গ ঈমান।

عَنْ مُعَاذٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أَعْطَى لِلهِ وَمَنَعَ لِلهِ وَأَحَبَّ لِلهِ وَأَبْغَضَ لِلهِ وَأَنْكَحَ لِلهِ فَقَدْ اسْتَكْمَلَ إِيمَانَهُ

عن معاذ الجهني قال قال رسول الله ﷺ من اعطى لله ومنع لله واحب لله وابغض لله وانكح لله فقد استكمل ايمانه
(আহমাদ ১৫৬১৭, ১৫৬৩৮, তিরমিযী ২৫২১, হাকেম, বাইহাক্বী , সহীহ সনদে)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৬১
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৬১) আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শুকরকারী হৃদয়, যিকরকারী জিহ্বা এবং পুণ্যময়ী স্ত্রী, যে তোমাকে তোমার দুনিয়া ও দ্বীনের কাজে সহযোগিতা করে, এ সব হল মানুষের সঞ্চিত সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ।

عَنْ أَبِـيْ أُمَامَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَلْبٌ شَاكِرٌ وَلِسَانٌ ذَاكِرٌ وَزَوجَةٌ صَالِحَةٌ تُغْنِيكَ عَلٰى أَمْرِ دُنْيَاكَ وَدِينِكَ خَيْرُ مَا اكْتَنزَ النَّاسُ

عن ابـي امامة قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم قلب شاكر ولسان ذاكر وزوجة صالحة تغنيك على امر دنياك ودينك خير ما اكتنز الناس
(ত্বাবারানী ৭৮২৮, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৪৪৩০, সহীহুল জামে’ হা/৪৪০৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ উমামাহ্ বাহিলী (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৬২
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন

(২৫৬২) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উট চড়েছে এমন (আরবের) মহিলা, ক্বুরাইশের মহিলা, যে নিজ সন্তানের প্রতি তার শৈশবে সবচেয়ে বড় স্নেহময়ী এবং তার স্বামীর ধন-সম্পদে সবচেয়ে বেশি হিফাযতকারিণী।

عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ نِسَاءُ قُرَيْشٍ خَيْرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الإِبِلَ أَحْنَاهُ عَلٰى طِفْلٍ وَأَرْعَاهُ عَلٰى زَوْجٍ فِى ذَاتِ يَدِهِ

عن ابـى هريرة قال قال رسول الله ﷺ نساء قريش خير نساء ركبن الابل احناه على طفل وارعاه على زوج فى ذات يده
(বুখারী ৫০৮২, মুসলিম ৬৬২৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৬৩
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের পয়গাম

(২৫৬৩) আবূ হুমাইদ অথবা হুমাইদাহ কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ কোন রমণীকে বিবাহ-প্রস্তাব দেয়, তখন যদি প্রস্তাবের জন্যই তাকে দেখে, তবে তা দূষণীয় নয়; যদিও ঐ রমণী তা জানতে না পারে।

عَنْ أَبِـيْ حُمَيْدٍ أَوْ حُمَيْدَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمْ امْرَأَةً فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَنْظُرَ إِلَيْهَا إِذَا كَانَ إِنَّمَا يَنْظُرُ إِلَيْهَا لِخِطْبَتِهِ وَإِنْ كَانَتْ لَا تَعْلَمُ

عن ابـي حميد او حميدة قال قال رسول الله ﷺ اذا خطب احدكم امراة فلا جناح عليه ان ينظر اليها اذا كان انما ينظر اليها لخطبته وان كانت لا تعلم
(আহমাদ ২৩৬০২-২৩৬০৩, সিলসিলা সহীহাহ ৯৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ হুমায়দ সা‘ঈদ (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৬৪
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের পয়গাম

(২৫৬৪) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, ’আমি এক তরুণীকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে তাকে দেখার জন্য (খেজুর গাছের গোড়ায়) লুকিয়ে থাকতাম। শেষ পর্যন্ত আমি তার সেই সৌন্দর্য দেখলাম, যা আমাকে বিবাহ করতে উৎসাহিত করল। অতঃপর আমি তাকে বিবাহ করলাম।

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ: خَطَبْتُ جَارِيَةً فَكُنْتُ أَتَخَبَّأُ لَهَا حَتّٰـى رَأَيْتُ مِنْهَا مَا دَعَانِى إِلَى نِكَاحِهَا وَتَزَوُّجِهَا فَتَزَوَّجْتُهَا

عن جابر بن عبد الله قال: خطبت جارية فكنت اتخبا لها حتـى رايت منها ما دعانى الى نكاحها وتزوجها فتزوجتها
(আহমাদ ১৪৫৮৬, আবূ দাঊদ ২০৮৪, হাকেম ২৬৯৬, বাইহাক্বী ১৩৮৬৯, সিলসিলা সহীহাহ ৯৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৬৫
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের পয়গাম

(২৫৬৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যেন কারো (বিবাহের) পয়গামের উপর পয়গাম না দেয়; যতক্ষণ পর্যন্ত না সে বিবাহ করে নেয় অথবা বর্জন করে দেয় (ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।)

عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ وَلَا يَـخْطُبُ الرَّجُلُ عَلٰى خِطْبَةِ أَخِيْهِ حَتّٰـى يَنْكِحَ أَوْ يَتْـرُكَ

عن ابـي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه و سلم قال ولا يـخطب الرجل على خطبة اخيه حتـى ينكح او يتـرك
(বুখারী ৫১৪৪, নাসাঈ ৩২৪১, সহীহুল জামে’ ৭৬৬৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৬৬
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের পয়গাম

(২৫৬৬) উক্ববা বিন আমের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মু’মিন মু’মিনের ভাই। সুতরাং তার জন্য তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় এবং বিবাহ-প্রস্তাবের উপর বিবাহ প্রস্তাব—তার ছেড়ে না দেওয়া পর্যন্ত—হালাল নয়।

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ الْمُؤْمِنُ أَخُو الْمُؤْمِنِ فَلَا يَـحِلُّ لِلْمُؤْمِنِ أَنْ يَّبْتَاعَ عَلٰـى بَيْعِ أَخِيْهِ وَلاَ يَـخْطُبَ عَلٰـى خِطْبَةِ أَخِيْهِ حَتّٰـى يَذَرَ

عن عقبة بن عامر قال ان رسول الله ﷺ قال المومن اخو المومن فلا يـحل للمومن ان يبتاع علـى بيع اخيه ولا يـخطب علـى خطبة اخيه حتـى يذر
(মুসলিম ৩৫২৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ উকবাহ ইবনু আমির (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৬৭
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ অভিভাবকের গুরুত্ব

(২৫৬৭) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে নারী তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই )নিজে নিজে( বিবাহ করে, তার বিবাহ বাতিল, বাতিল, বাতিল। আর যদি তার স্বামী তার সাথে সহবাস করে, তাহলে তার লজ্জাস্থান হালাল হিসেবে ব্যবহার করার কারণে তাকে মোহর দিতে হবে। আর যদি তার অভিভাবকত্ব নিয়ে (লোকেরা) কলহ করে তাহলে যার ওলী নেই বাদশাহ হবে তার ওলী।

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺأَيُّمَا اِمْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَإِنْ دَخَلَ بِهَا فَلَهَا الْمَهْرُ بِمَا اسْتَحَلَّ مِنْ فَرْجِهَا وَإِنِ اشْتَجَرُوْا فَالسُّلْطَانُ وَلِيُّ مَنْ لَا وَلِيَّ لَهاَ

عن عاىشة قالت: قال رسول الله ﷺايما امراة نكحت بغير اذن وليها فنكاحها باطل فنكاحها باطل فنكاحها باطل فان دخل بها فلها المهر بما استحل من فرجها وان اشتجروا فالسلطان ولي من لا ولي لها
(আহমাদ ২৪২০৫, আবূ দাঊদ ২০৮৩, তিরমিযী ১১০২, ইবনে মাজাহ ১৮৭৯, দারেমী ২১৮৪, মিশকাত ৩১৩১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৬৮
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ অভিভাবকের গুরুত্ব

(২৫৬৮) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অকুমারীর পরামর্শ বা জবানী অনুমতি না নিয়ে এবং কুমারীর সম্মতি না নিয়ে তাদের বিবাহ দেওয়া যাবে না। আর কুমারীর সম্মতি হল মৌন থাকা।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْذَنُ فِى نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا

عن ابن عباس ان النبى ﷺ قال الايم احق بنفسها من وليها والبكر تستاذن فى نفسها واذنها صماتها
(মুসলিম ৩৫৪১, সঃ নাসাঈ ৩০৫৮, সঃ ইবনে মাজাহ ১৫১৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৬৯
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ মোহর

(২৫৬৯) উক্ববা বিন আমের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে সকল শর্ত তোমাদের জন্য পালন করা জরুরী, তন্মধ্যে সব চাইতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল তাই—যার দ্বারা তোমরা তোমাদের (পরস্পরের) গোপনাঙ্গ হালাল করে থাক।

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ أَحَقَّ الشَّرْطِ أَنْ يُوفَى بِهِ مَا اسْتَحْلَلْتُمْ بِهِ الْفُرُوجَ

عن عقبة بن عامر قال قال رسول الله ﷺ ان احق الشرط ان يوفى به ما استحللتم به الفروج
(বুখারী ২৭২১, ৫১৫১, মুসলিম ৩৫৩৭, মিশকাত ৩১৪৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ উকবাহ ইবনু আমির (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৭০
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ মোহর

(২৫৭০) আয়েশা ও ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক সেই শর্ত, যা আল্লাহর কিতাবে নেই (বা আল্লাহর কিতাব-বিরোধী), তা বাতিল, যদিও সে শর্ত একশ’টি হয়।

عَنْ عَائِشَةَ وابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ: كُلُّ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللهِ فَهُوَ بَاطِلٌ وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ

عن عاىشة وابن عباس قال: قال رسول الله ﷺ: كل شرط ليس في كتاب الله فهو باطل وان كان ماىة شرط
(আহমাদ ২৫৫০৪, ইবনে মাজাহ ২৫২১, ত্বাবারানী ১০৭১০, সনদ সহীহ।)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৭১
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ মোহর

(২৫৭১) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট সবচাইতে বড় পাপী সেই ব্যক্তি যে এক মহিলাকে বিবাহ করার পর তার নিকট থেকে তার প্রয়োজন মিটিয়ে নিয়ে তাকে তালাক দেয় এবং তার মোহর আত্মসাৎ করে নেয়। দ্বিতীয় হল সেই ব্যক্তি, যে একটি লোককে কাজে খাটিয়ে তার মজুরী আত্মসাৎ করে নেয়। আর তৃতীয় সেই ব্যক্তি যে খামোখা প্রাণী হত্যা করে।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ أَعْظَمَ الذُّنُوبِ عِنْدَ اللهِ رَجُلٌ تَزَوَّجَ امْرَأَةً فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ مِنْهَا طَلَّقَهَا وَذَهَبَ بِمَهْرِهَا وَرَجُلٌ اسْتَعْمَلَ رَجُلاً فَذَهَبَ بِأُجْرَتِهِ وَآخَرُ يَقْتُلُ دَابَّةً عَبَثًا

عن ابن عمر رضى الله عنهما ان رسول الله ﷺ قال ان اعظم الذنوب عند الله رجل تزوج امراة فلما قضى حاجته منها طلقها وذهب بمهرها ورجل استعمل رجلا فذهب باجرته واخر يقتل دابة عبثا
(হাকেম ২৭৪৩, বাইহাকী ১৪৭৮১, সহীহুল জামে’ ১৫৬৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৭২
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ

(২৫৭২) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করলে, তাকে আশ্রয় দাও। আর যে আল্লাহর নামে চাইবে, তাকে দান কর। যে তোমাদেরকে নিমন্ত্রণ দেবে, তোমরা তার নিমন্ত্রণ গ্রহণ কর। যে তোমাদের উপকার করবে, তোমরা তার (যথোচিত) প্রতিদান দাও। আর যদি তোমরা তার (যথার্থ) প্রতিদানযোগ্য কিছু না পাও, তাহলে তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত দু’আ করতে থাক, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের এ ধারণা বদ্ধমূল হবে যে, তোমরা তার (সঠিক) প্রতিদান আদায় ক’রে দিয়েছ।

وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنِ اسْتَعَاذَ بِاللهِ فَأَعِيذُوهُ وَمَنْ سَأَلَ بِاللهِ فأَعْطُوهُ وَمَنْ دَعَاكُمْ فَأَجِيبُوهُ وَمَنْ صَنَعَ إِلَيْكُمْ مَعْرُوفاً فَكَافِئُوهُ فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا مَا تُكَافِئُونَهُ بِهِ فَادْعُوا لَهُ حَتّٰـى تَرَوْا أَنَّكُمْ قَد كَافَأْتُمُوهُ

وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال : قال رسول الله ﷺ من استعاذ بالله فاعيذوه ومن سال بالله فاعطوه ومن دعاكم فاجيبوه ومن صنع اليكم معروفا فكافىوه فان لم تجدوا ما تكافىونه به فادعوا له حتـى تروا انكم قد كافاتموه
(আবূ দাঊদ ১৬৭৪, নাসায়ী ২৫৬৭ সনদ সহীহ।)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৭৩
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ

(২৫৭৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলতেন, ’সবচেয়ে নিকৃষ্টতম খাবার হল সেই অলীমার খাবার যার জন্য ধনীদেরকে দাওয়াত দেওয়া হয় এবং বাদ দেওয়া হয় গরীবদেরকে। আর যে ব্যক্তি দাওয়াত গ্রহণ করল না সে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফরমানী করল।’ (বুখারী ৫১৭৭, মুসলিম ১৪৩২)

মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

شَرُّ الطَّعَامِ طَعَامُ الْوَلِيمَةِ يُمْنَعُهَا مَنْ يَأْتِيهَا وَيُدْعَى إِلَيْهَا مَنْ يَأْبَاهَا وَمَنْ لَمْ يُجِبِ الدَّعْوَةَ فَقَدْ عَصَى اللهَ وَرَسُوْلَهُ

সবচেয়ে নিকৃষ্টতম খাবার হল সেই অলীমার খাবার; যাতে তাদেরকে আসতে নিষেধ করা হয় (বা দাওয়াত দেওয়া হয় না), যারা তা খেতে চায় এবং যার প্রতি তাদেরকে আহবান করা হয়, যারা তা খেতে চায় না। আর যে ব্যক্তি দাওয়াত গ্রহণ করে না সে ব্যক্তি আল্লাহ ও তদীয় রসূলের না ফরমানী করে। (মুসলিম ৩৫৯৮)

عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ يَقُوْلُ: شَرُّ الطَّعَامِ طَعَامُ الْوَلِيمَةِ يُدْعَى لَهَا الْأَغْنِيَاءُ وَيُتْرَكُ الْفُقَرَاءُ وَمَنْ تَرَكَ الدَّعْوَةَ فَقَدْ عَصَى اللهَ وَرَسُوْلَهُ ﷺ

عن ابـي هريرة رضي الله عنه انه كان يقول: شر الطعام طعام الوليمة يدعى لها الاغنياء ويترك الفقراء ومن ترك الدعوة فقد عصى الله ورسوله ﷺ
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৭৪
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ

(২৫৭৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুসলিমের উপর মুসলিমের ৫টি অধিকার রয়েছে; সালামের জবাব দেওয়া, রোগীকে সাক্ষাৎ করে সান্ত্বনা দেওয়া, জানাযায় অংশগ্রহণ করা, দাওয়াত কবুল করা এবং হাঁচির পর ’আল-হামদু লিল্লাহ’ বললে তার জবাবে ’য়্যারহামুকাল্লাহ’ বলা।

عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ : رَدُّ السَّلَامِ وَعِيَادَةُ الْمَرِيضِ وَاتِّبَاعُ الْجَنَائِزِ وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ

عن ابـى هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم حق المسلم على المسلم خمس : رد السلام وعيادة المريض واتباع الجناىز واجابة الدعوة وتشميت العاطس
(বুখারী ১২৪০, মুসলিম ৫৭৭৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৭৫
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ

(২৫৭৫) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তোমাদের কাউকে অলীমার দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন সে যেন তা কবুল করে। অতঃপর তার ইচ্ছা হলে খেতে পারে, না হলে না খেতে পারে।

عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا دُعِىَ أَحَدُكُمْ إِلٰـى طَعَامٍ فَلْيُجِبْ فَإِنْ شَاءَ طَعِمَ وَإِنْ شَاءَ تَرَكَ

عن جابر قال قال رسول الله ﷺ اذا دعى احدكم الـى طعام فليجب فان شاء طعم وان شاء ترك
(মুসলিম ৩৫৯১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৭৬
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ

(২৫৭৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনে, (অলীমাভোজে) আপোসে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদ্বয়ের দাওয়াত কবুল করা যাবে না এবং তাদের খাবারও খাওয়া হবে না।

عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المُتَبَارِيَانِ لاَ يُجَابَانِ وَلاَ يُؤكَلُ طَعَامُهُما

عن ابـى هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم المتباريان لا يجابان ولا يوكل طعامهما
(বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৬০৬৮, আবূ দাঊদ ৩৭৫৬, সহীহুল জামে’ ৬৬৭১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৭৭
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ

(২৫৭৭) জাবের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন সেই ভোজ-মজলিসে না বসে যাতে মদ্য পরিবেশিত হয়।

عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَمنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلَا يَجْلِسْ عَلٰى مَائِدَةٍ يُدَارُ عَلَيْهَا الْخَمْرُ

عن جابر رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ومن كان يومن بالله واليوم الاخر فلا يجلس على ماىدة يدار عليها الخمر
(আহমাদ ১৪৬৫১, তিরমিযী ২৮০১, নাসাঈ ২৭১০, হাকেম ৭৭৭৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৭৮
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ

(২৫৭৮) একদা আলী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিমন্ত্রণ করলে তিনি তাঁর গৃহে ছবি দেখে ফিরে গেলেন। আলী (রাঃ) বললেন, ’কী কারণে ফিরে এলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার মা-বাপ আপনার জন্য কুরবান হোক।’ তিনি উত্তরে বললেন, গৃহের এক পর্দায় (প্রাণীর) ছবি রয়েছে। আর ফিরিশতাবর্গ সে গৃহে প্রবেশ করেন না, যে গৃহে ছবি থাকে।

عَنْ عَلِيٍ أَنَّهُ صَنَعَ طَعَامًا فَدَعَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ فَجَاءَ فَرَأَى فِي الْبَيْتِ سَتَرَا فِيْهِ تَصَاوِيْرُ فَرَجَعَ قَالَ : فَقُلْتُ : يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا رَجَعَكَ بِأَبِيْ أَنْتَ وَأُمِّي ؟ قَالَ : إِنَّ فِي الْبَيْتِ سَتَرَا فِيْهِ تَصَاوِيْرُ وَإِنَّ الْمَلَائِكَةِ لَا تَدْخُلُ بيْتًا فِيْهِ تَصَاوِيْرُ

عن علي انه صنع طعاما فدعا رسول الله صلى الله عليه و سلم فجاء فراى في البيت سترا فيه تصاوير فرجع قال : فقلت : يا رسول الله ما رجعك بابي انت وامي ؟ قال : ان في البيت سترا فيه تصاوير وان الملاىكة لا تدخل بيتا فيه تصاوير
(নাসাঈ ৫৩৫১, সহীহ সনদে, ইবনে মাজাহ ৩৩৫৯, আবূ য়্যালা ৪৩৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৭৯
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ

(২৫৭৯) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, একদা আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য খাবার তৈরী করলাম। তিনি তাঁর অন্যান্য সহচর-সহ আমার বাড়িতে এলেন। অতঃপর যখন খাবার সামনে রাখা হল, তখন দলের মধ্যে একজন বলল, ’আমার রোযা আছে।’ তা শুনে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের ভাই তোমাদেরকে দাওয়াত দিয়ে খরচ (বা কষ্ট) করেছে। অতঃপর তিনি তার উদ্দেশ্যে বললেন, ’’রোযা ভেঙ্গে দাও। আর চাইলে তার বিনিময়ে অন্য একদিন রোযা রাখ।

عَنْ أَبِيْ سَعِيْدِ الْخُدْرِيْ أَنَّهُ صَنَعْتُ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ طَعَامًا فَدَعَاهُمْ فَلَمَّا دَخَلُوْا وَضَعَ الطُّعَامُ فَقَالَ رَجُلُ مِّنَ الْقَوْمِ إِنِّي صَائِمٌ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ دَعَاكُمْ أَخُوْكُمْ وَتَكَلَّفَ لَكُمْ ثُمَّ تَقُوْلُ إِنِّي صَائِمٌ أَفْطَرَ ثُمَّ صُمْ يَوْمٌا مَكاَنَهُ إِنْ شِئْتَ رواه البيهقي بإسناد حسن

عن ابي سعيد الخدري انه صنعت لرسول الله صلى الله عليه و سلم واصحابه طعاما فدعاهم فلما دخلوا وضع الطعام فقال رجل من القوم اني صاىم فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم دعاكم اخوكم وتكلف لكم ثم تقول اني صاىم افطر ثم صم يوما مكانه ان شىت رواه البيهقي باسناد حسن
(বাইহাক্বী ৪/২৭৯, ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৩২৪০, ইরওয়াউল গালীল ৭/১২পৃ.)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৮০
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ

(২৫৮০) একদা এক আনসারী আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহ পাঁচ জনকে দাওয়াত করলে রাস্তায় একটি লোক তাঁর সঙ্গ ধরে। তিনি সেই আনসারী সাহাবীর কাছে পৌঁছে বললেন,

إِنَّكَ دَعَوْتَنَا خَامِسَ خَمْسَةٍ وَهٰذَا رَجُلٌ قَدْ تَبِعَنَا فَإِنْ شِئْتَ أَذِنْتَ لَهُ وَإِنْ شِئْتَ تَرَكْتَهُ، قَالَ بَلْ أَذِنْتُ لَهُ

তুমি আমাকে নিয়ে মোট পাঁচ জনকে দাওয়াত দিয়েছিলে। কিন্তু পথিমধ্যে এই লোকটি আমাদের সঙ্গ ধরে। এখন তুমি ওকে অনুমতি দিলে দিতে পার। নচেৎ বর্জন করলেও করতে পার। আনসারী বললেন, ’বরং ওকে অনুমতি দিচ্ছি।


(বুখারী ৫৪৩৪, মুসলিম ২০৩৬, তিরমিযী ১০৯৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৮১
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

(২৫৮১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ সেই স্বামীর প্রতি দয়া বর্ষণ করেন, যে রাত্রে উঠে নামায পড়ে এবং নিজ স্ত্রীকে জাগায়, আর সেও নামায পড়ে। সে উঠতে অস্বীকার করলে তার মুখে পানির ছিটা মারে। আল্লাহ সেই স্ত্রীর প্রতিও দয়া বর্ষণ করেন, যে রাত্রে উঠে নামায পড়ে এবং নিজ স্বামীকে জাগায়, আর সেও নামায পড়ে। সে উঠতে অস্বীকার করলে তার মুখে পানির ছিটা মারে।

عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ رَحِمَ اللهُ رَجُلاً قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِى وَجْهِهَا الْمَاءَ رَحِمَ اللهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّتْ وَأَيْقَظَتْ زَوْجَهَا فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِى وَجْهِهِ الْمَاءَ

عن ابـى هريرة قال قال رسول الله ﷺ رحم الله رجلا قام من الليل فصلى وايقظ امراته فان ابت نضح فى وجهها الماء رحم الله امراة قامت من الليل فصلت وايقظت زوجها فان ابى نضحت فى وجهه الماء
(আহমাদ ৭৪১০, আবূ দাঊদ ১৩১০, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, হাকেম, সহীহুল জামে ৩৪৯৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৮২
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

(২৫৮২) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায পড়তেন আর আমি তখন তাঁর বিছানায় আড়াআড়ি শুয়ে থাকতাম। তিনি যখন বিতর পড়ার ইচ্ছা করতেন, তখন আমাকে জাগিয়ে দিতেন। আমিও বিতর পড়ে নিতাম।

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَأَنَّ النَّبِـيَّ ﷺ يُصَلِّي وَأَنَا رَاقِدَةٌ مُعْتَرِضَةٌ عَلٰى فِرَاشِهِ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يُوتِرَ أَيْقَظَنِي فَأَوْتَرْتُ

عن عاىشة قالت كان النبـي ﷺ يصلي وانا راقدة معترضة على فراشه فاذا اراد ان يوتر ايقظني فاوترت
(বুখারী ৫১২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৮৩
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

(২৫৮৩) আয়েশা (রাঃ) বলেন, ’একদা এক সফরে আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। এক জায়গায় আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম এবং তাতে আমি তাঁকে হারিয়ে দিলাম। অতঃপর যখন আমি মোটা হয়ে গেলাম, তখন একবার প্রতিযোগিতা করলাম এবং তিনি আমাকে হারিয়ে দিলেন এবং বললেন এটা হল পূর্বের (প্রতিযোগিতার) উত্তর।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِىِّ ﷺ فِى سَفَرٍ قَالَتْ فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلٰى رِجْلَىَّ فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِى فَقَالَ هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ

عن عاىشة رضى الله عنها انها كانت مع النبى ﷺ فى سفر قالت فسابقته فسبقته على رجلى فلما حملت اللحم سابقته فسبقنى فقال هذه بتلك السبقة
(সহীহ আবূ দাঊদ ২৫৮০, সহীহ সনদে)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৮৪
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

(২৫৮৪) আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা হাবশীরা বর্শা-বল্লম নিয়ে মসজিদে খেলা করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ’’হে হুমাইরা! তুমি কি ওদের খেলা দেখতে চাও?’’ আমি বললাম, ’হ্যাঁ।’ তখন তিনি দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন। আমি আমার থুত্নিকে তাঁর কাঁধের উপর রাখলাম এবং আমার চেহারাকে তাঁর গালের সাথে লাগিয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। (বেশ কিছুক্ষণ দেখার পর) তিনি বললেন, ’’যথেষ্ট হয়েছে, চল এবারে।’’ আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! তাড়াতাড়ি করবেন না।’ তাই তিনি আমার জন্য আবারও দাঁড়িয়ে গেলেন। অতঃপর আবার বললেন, ’’যথেষ্ট হয়েছে, চল এবারে।’’ আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! তাড়াতাড়ি করবেন না।’ আমার যে তাদের খেলা দেখার খুব শখ ছিল তা নয়, বরং আমি কেবল তাঁর অন্যান্য স্ত্রীদেরকে এ কথাটা জানিয়ে দিতে চাইছিলাম যে, আমার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতটা মর্যাদা ছিল এবং তাঁর কাছে আমার কতটা কদর ছিল। (নাসাঈ কুবরা ৮৯৫১, মুসলিম ২১০০-২১০৫)

عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ : دَخَلَ الْحَبَشَةُ الْمَسْجِدَ يَلْعَبُونَ فَقَالَ لِي : يَاحُمَيْرَاءُ اتُحِبَّينَ أَنْ تَنْظُرِي إِلَيْهِمْ ؟ فَقُلْتُ : نَعَمْ فَقَامَ بِالْبَابِ وَجِئْتُهُ فَوَضَعْتُ ذَقَنِي عَلٰى عَاتِقِهِ فَاسْنَدْتُ وَجْهِيَ إِلٰـى خَدِّهِ قَالَتْ : وَمِنْ قَوْلِهِمْ يَوْمَئِذٍ : ابَا الْقَاسِم طيبًا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : حَسْبُكِ ؟ فَقُلْتُ : يَا رَسُوْلَ اللهِ لاتَعْجَلْ فَقَامَ لِي ثُمَّ قَالَ : حَسْبُكِ ؟ فَقُلْتُ : لا تَعْجَلْ يَارَسُوْلَ اللهِ قَالَتْ : وَمَابِي حُبُّ النَّظَرِ إِلَيْهِمْ وَلَكِنِّي احْبَبْتُ أَنْ تُبَلَّغَ النِّسَاءُ مَقَامَهُ بِي وَمَكَانِي مِنْهُ

عن عاىشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت : دخل الحبشة المسجد يلعبون فقال لي : ياحميراء اتحبين ان تنظري اليهم ؟ فقلت : نعم فقام بالباب وجىته فوضعت ذقني على عاتقه فاسندت وجهي الـى خده قالت : ومن قولهم يومىذ : ابا القاسم طيبا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : حسبك ؟ فقلت : يا رسول الله لاتعجل فقام لي ثم قال : حسبك ؟ فقلت : لا تعجل يارسول الله قالت : ومابي حب النظر اليهم ولكني احببت ان تبلغ النساء مقامه بي ومكاني منه
(নাসাঈ কুবরা ৮৯৫১, মুসলিম ২১০০-২১০৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৮৫
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

(২৫৮৫) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) ও জাবের বিন উমাইর আনসারী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতি কাজ (খেলা) যাতে আল্লাহর যিকর, (ধর্মীয় উদ্দেশ্য, শারীরিক উপকার) থাকে না, তাই (অসার) ক্রীড়াকৌতুক, চারটি খেলা ছাড়া; তীরন্দাজি, অশ্ব প্রশিক্ষণ, স্বামী-স্ত্রীর প্রেমখেলা এবং সাঁতার শিক্ষা।

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ وَجَابِرِ بْنِ عُمَيْرٍ الْأَنْصَارِيَّ، أن رَسُوْلَ اللهِ – صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال كُلُّ شَيْءٍ لَيْسَ مِنْ ذِكْرِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ فَهُوَ لَغْوٌ وَسَهْوٌ إِلَّا أَرْبَعَ خِصَالٍ : مَشْيُ الرَّجُلِ بَيْنَ الْغَرَضَيْنِ، وَتَأْدِيبُ فَرَسَهُ، وَمُلَاعَبَتُهُ أَهْلَهُ، وَتَعْلِيمُ السِّبَاحَةِ

عن جابر بن عبد الله وجابر بن عمير الانصاري، ان رسول الله – صلى الله عليه وسلم قال كل شيء ليس من ذكر الله عز وجل فهو لغو وسهو الا اربع خصال : مشي الرجل بين الغرضين، وتاديب فرسه، وملاعبته اهله، وتعليم السباحة
(নাসাঈ কুবরা ৮৯৩৯-৮৯৪০, সহীহুল জামে’ হা/ ৪৫৩৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৮৬
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

(২৫৮৬) আবূ যার থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের স্ত্রী-মিলন করাও সাদকাহ।’’ সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ স্ত্রী-মিলন করে নিজের যৌনক্ষুধা নিবারণ করে তবে এতেও কি তার পুণ্য হবে? তিনি বললেন, ’’কী রায় তোমাদের, যদি কেউ অবৈধভাবে যৌন-মিলন করে, তাহলে কি তার পাপ হবে? (নিশ্চয় হবে।) অনুরূপ সে যদি বৈধভাবে (স্ত্রী-মিলন করে) নিজের কামক্ষুধা নিবারণ করে, তাহলে তাতে তার পুণ্য হবে।

عَنْ أَبِى ذَرٍّ قَالَ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ وَفِى بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ قَالُوا يَا رَسُوْلَ اللهِ أَيَأْتِى أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُونُ لَهُ فِيهَا أَجْرٌ قَالَ أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِى حَرَامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ فِيهَا وِزْرٌ فَكَذٰلِكَ إِذَا وَضَعَهَا فِى الْحَلاَلِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ

عن ابى ذر قال قال النبـي ﷺ وفى بضع احدكم صدقة قالوا يا رسول الله اياتى احدنا شهوته ويكون له فيها اجر قال ارايتم لو وضعها فى حرام اكان عليه فيها وزر فكذلك اذا وضعها فى الحلال كان له اجر
(মুসলিম ২৩৭৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৮৭
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

(২৫৮৭) আয়েশা (রাঃ) যখন ছোট ছিলেন, তখন কাপড়ের তৈরি পুতুল নিয়ে খেলা করতেন। তার মধ্যে একটি ঘোড়া ছিল, যার দু’টি ডানা ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে বললেন, ’এটা কী?’ আয়েশা বললেন, ’ঘোড়া।’ তিনি বললেন,

فَرَسٌ لَهُ جَنَاحَانِ قَالَتْ أَمَا سَمِعْتَ أَنَّ لِسُلَيْمَانَ خَيْلاً لَهَا أَجْنِحَةٌ قَالَتْ فَضَحِكَ حَتّٰـى رَأَيْتُ نَوَاجِذَهُ

’ঘোড়ার আবার দু’টি ডানা?’ আয়েশা বললেন, ’আপনি কি শুনেননি, সুলাইমান (নবী)র ডানা-ওয়ালা ঘোড়া ছিল?’ এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন এবং সে হাসিতে তাঁর চোয়ালের দাঁত দেখা গেল।


(আবু দাঊদ ৪৯৩৪, মিশকাত ৩২৬৫, সহীহ সনদে)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৮৮
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

(২৫৮৮) আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা সাওদা বিনতে যামআ’ আমার সাথে দেখা করতে আমার বাসায় এলো। রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও আমার মাঝখানে বসে গেলেন। তাঁর একটি পা আমার কোলে, আর একটি পা সাওদার কোলে ছিল। আমি তার (সাওদার) জন্য ’খাযীরা’ (গোশ্ত ছোট ছোট করে কেটে তাতে আটা মিশিয়ে রান্না করা খাবার) তৈরী করলাম। অতঃপর তাকে খেতে বললে সে খেতে অস্বীকার করল। আমি বললাম, ’তুমি অবশ্যই খাবে, নচেৎ আমি তোমার মুখে তা লেপে দেব।’ সে অস্বীকার করলে আমি প্লেট থেকে সামান্য পরিমাণ নিয়ে তার মুখে লেপে দিলাম।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোল থেকে স্বীয় পা সরিয়ে নিলেন, যাতে সে আমার কাছ থেকে বদলা নিতে পারে। অতঃপর আমি প্লেট থেকে আরো কিছু নিয়ে আমার মুখে লেপে নিলাম। তা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসতে লাগলেন। ইত্যবসরে উমার (রাঃ) উপস্থিত হয়ে বলতে লাগলেন, ’হে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার! হে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার!’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, তোমরা উঠে তোমাদের মুখ ধুয়ে নাও, আমার মনে হয় উমার প্রবেশ না করে ছাড়বে না।

عَنْ عَائِشَةَ قالت: زَارَتْنَا سَوْدَةُ يَوْما فَجَلَسَ رَسُوْلُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنِي وَبَيْنَهَا احْدَئ رِجْلَيْهِ فِي حِجْرِي وَالاخْرَئ فِي حِجْرِهَا فَعَمِلْتُ لَهَا حَريرَةً او قالت : خزيرَةً فَقُلْتً : كُلِي فَابَتْ فَقُلْتَُ: لَتَاكُلِي اوْ لالْطِخَنَّ وَجْهَكِ فَابَتْ فَاخَذْتُ مِنَ الْقَصْعَةِ شَيْئا فَلَطَخْتُ بِهِ وَجْهَهَا فَرَفَعَ رَسُوْلُ اللهِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رِجْلَهُ مِنْ حِجْرِهَا تَسْتَقِيدُ مِنِّىِ فَاخَذَتْ مِنَ الْقَصْعَةِ شَيْئا فلطَخَتْ بِهِ وَجْهِي وَرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَضْحَكُ فَاذَا عُمَرُ يَقُوْلُ : يَاعبد الله بْنَ عُمَرَ يَا عبد الله بْنَ عُمَرَ فَقَالَ لَنَا رَسُوْلُ اللهِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قُومَا فَاغْسِلا وُجُوهَكُمَا فَلا احْسَبُ عُمَرَ الا دَاخِلا

عن عاىشة قالت: زارتنا سودة يوما فجلس رسول صلى الله عليه وسلم بيني وبينها احدى رجليه في حجري والاخرى في حجرها فعملت لها حريرة او قالت : خزيرة فقلت : كلي فابت فقلت: لتاكلي او لالطخن وجهك فابت فاخذت من القصعة شيىا فلطخت به وجهها فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم رجله من حجرها تستقيد منى فاخذت من القصعة شيىا فلطخت به وجهي ورسول الله صلى الله عليه وسلم يضحك فاذا عمر يقول : ياعبد الله بن عمر يا عبد الله بن عمر فقال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: قوما فاغسلا وجوهكما فلا احسب عمر الا داخلا
(নাসাঈ কুবরা ৮৯১৭, সিলসিলা সহীহাহ ৩১৩১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৮৯
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

(২৫৮৯) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য) গোসল করতাম, তখন আমাদের উভয়ের মাঝে একটাই পাত্র হত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাড়াতাড়ি করে (সেটা থেকে পানি নিতে) গেলে আমি বলতাম, ছাড়ুন আমি আগে নিই, ছাড়ুন আমি আগে নিই।

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مِنْ إِنَاءٍ بَيْنِى وَبَيْنَهُ وَاحِدٍ فَيُبَادِرُنِـىْ حَتّٰـى أَقُولَ دَعْ لِـىْ دَعْ لِـىْ

عن عاىشة قالت كنت اغتسل انا و رسول الله ﷺ من اناء بينى وبينه واحد فيبادرنـى حتـى اقول دع لـى دع لـى
(মুসলিম ৭৫৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৯০
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

(২৫৯০) উরওয়াহ বলেন, আয়েশা (রাঃ)-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ঘরে কাজ করতেন?’ তিনি বললেন, ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য মানুষের মত একজন মানুষ ছিলেন; স্বহস্তে কাপড় পরিষ্কার করতেন, দুধ দোহাতেন এবং নিজের খেদমত নিজেই করতেন। অন্যনা্য পুরুষরা যেমন নিজেদের বাড়ীতে কাজ করে, অনুরূপ তিনিও তাঁর কাপড়ে তালি লাগাতেন এবং জুতো সিলাই করতেন।

وَعَنْ عُرْوَةَ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ عَائِشَةَ هَلْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَعْمَلُ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ نَعَمْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَخْصِفُ نَعْلَهُ، وَيَخِيطُ ثَوْبَهُ، وَيَعْمَلُ فِي بَيْتِهِ كَمَا يَعْمَلُ أَحَدُكُمْ فِي بَيْتِهِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ مُخْتَصَرًا مِنْ رِوَايَةِ الأَسْوَدِ قُلْت لِعَائِشَةَ مَا كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَصْنَعُ إذَا دَخَلَ بَيْتَهُ؟ قَالَتْ: كَانَ يَكُونُ فِي مِهْنَةِ أَهْلِهِ وَلِلتِّرْمِذِيِّ فِي الشَّمَائِلِ كَانَ بَشَرًا مِنْ الْبَشَرِ يُفَلِّي ثَوْبَهُ وَيَحْلِبُ شَاتَهُ وَيَخْدُمُ نَفْسَهُ

وعن عروة قال سال رجل عاىشة هل كان رسول الله ﷺ يعمل في بيته؟ قالت نعم كان رسول الله ﷺ يخصف نعله، ويخيط ثوبه، ويعمل في بيته كما يعمل احدكم في بيته رواه البخاري مختصرا من رواية الاسود قلت لعاىشة ما كان رسول الله ﷺ يصنع اذا دخل بيته؟ قالت: كان يكون في مهنة اهله وللترمذي في الشماىل كان بشرا من البشر يفلي ثوبه ويحلب شاته ويخدم نفسه
(সহীহ আদাবুল মুফরাদ ১/২১৫, সহীহুল জামে’ ৯০৬৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ উরওয়াহ (রহঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৯১
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

(২৫৯১) আসওয়াদ বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে কী করতেন? উত্তরে তিনি বললেন, ’তিনি সাংসারিক কাজ করতেন। অতঃপর নামাযের সময় হলে নামাযের জন্য বের হয়ে যেতেন।

عَنِ الْأَسْوَدِ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ مَا كَأَنَّ النَّبِـيَّ ﷺ يَصْنَعُ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ: كَانَ يَكُونُ فِي مِهْنَةِ أَهْلِهِ تَعْنِي خِدْمَةَ أَهْلِهِ فَإِذَا حَضَرَتْ الصَّلَاةُ خَرَجَ إِلٰـى الصَّلَاةِ

عن الاسود قال سالت عاىشة ما كان النبـي ﷺ يصنع في بيته؟ قالت: كان يكون في مهنة اهله تعني خدمة اهله فاذا حضرت الصلاة خرج الـى الصلاة
(বুখারী ৬৭৬, ৫৩৬৩, ৬০৩৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আসওয়াদ (রহঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৯২
বাংলা/আরবী
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

(২৫৯২) আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমি অবশ্যই জানতে পারি কখন তুমি আমার প্রতি খুশী থাক এবং কখন রাগান্বিতা হও। আমি বললাম, কী করে আপনি তা বুঝতে পারেন? তিনি বললেন, যখন তুমি আমার প্রতি খুশী থাক, তখন বল, না, মুহাম্মাদের রবেবর শপথ! আর যখন তুমি আমার প্রতি রেগে থাক, তখন বল, না, ইব্রাহীমের রবেবর শপথ! আমি তখন বললাম, ’হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি আপনার নাম ছাড়া আর কিছুই বাদ দিই না।

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ لِى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنِّى لأَعْلَمُ إِذَا كُنْتِ عَنِّى رَاضِيَةً وَإِذَا كُنْتِ عَلَىَّ غَضْبَى قَالَتْ فَقُلْتُ وَمِنْ أَيْنَ تَعْرِفُ ذٰلِكَ قَالَ أَمَّا إِذَا كُنْتِ عَنِّى رَاضِيَةً فَإِنَّكِ تَقُولِينَ لاَ وَرَبِّ مُحَمَّدٍ وَإِذَا كُنْتِ غَضْبَى قُلْتِ لاَ وَرَبِّ إِبْرَاهِيمَ قَالَتْ قُلْتُ أَجَلْ وَاللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا أَهْجُرُ إِلاَّ اسْمَكَ

عن عاىشة قالت قال لى رسول الله ﷺ انى لاعلم اذا كنت عنى راضية واذا كنت على غضبى قالت فقلت ومن اين تعرف ذلك قال اما اذا كنت عنى راضية فانك تقولين لا ورب محمد واذا كنت غضبى قلت لا ورب ابراهيم قالت قلت اجل والله يا رسول الله ما اهجر الا اسمك
(বুখারী ৫২২৮, ৬০৭৮, মুসলিম ৬৪৩৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ হাদীস সম্ভার ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য
২৫৯৩
বাংলা/আরবী

 

 

 পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

 

(২৫৯৩) আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোন খাবারের দোষ বর্ণনা করেননি। (খাবার সামনে এলে) রুচি (বা ইচ্ছা) হলে তিনি খেতেন, তা না হলে বর্জন করতেন।

 

عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ مَا عَابَ النَّبِيُّ ﷺ طَعَامًا قَطُّ إِنْ اشْتَهَاهُ أَكَلَهُ وَإِلَّا تَرَكَهُ

 

عن ابـي هريرة رضي الله عنه قال ما عاب النبي ﷺ طعاما قط ان اشتهاه اكله والا تركه

(বুখারী ৫৪০৯, মুসলিম ৫৫০৪)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৫৯৪

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

 

(২৫৯৪) ফাযালাহ বিন উবাইদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন ব্যক্তি সম্পর্কে কোন প্রশ্নই করো না; যে জামাআত ত্যাগ করে ইমামের অবাধ্য হয়ে মারা যায়, যে ক্রীতদাস বা দাসী প্রভু থেকে পলায়ন করে মারা যায়, এবং সেই নারী যার স্বামী অনুপস্থিত থাকলে -তার সাংসারিক সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিস বন্দোবস্ত করে দেওয়া সত্ত্বেও তার অনুপস্থিতিতে বেপর্দা হয়ে বাইরে যায়।

 

عَنْ فَضَالَةَ بن عُبَيْدٍ، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ، قَالَ ثلَاثَةٌ لَا تَسألُ عَنْهُمْ رَجُلٌ فَارَقَ الْـجَماعَةَ وعَصَى إِمامَهُ وماتَ عَاصِياً وأمَةٌ أوْ عَبْدٌ أبقَ مِنْ سَيّدِهِ فَماتَ وامْرَأةٌ غَابَ عَنْهَا زَوْجهَا وقدْ كَفَاهَا مَؤنَةَ الدُّنْيا فَتَبَرَّجَتْ بَعْدَهُ فَلَا تَسْألْ عَنْهُمْ

 

عن فضالة بن عبيد، ان رسول الله ﷺ، قال ثلاثة لا تسال عنهم رجل فارق الـجماعة وعصى امامه ومات عاصيا وامة او عبد ابق من سيده فمات وامراة غاب عنها زوجها وقد كفاها مونة الدنيا فتبرجت بعده فلا تسال عنهم

(আহমাদ ২৩৯৪৩, বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ ৫৯০, হাকেম ৪১১, ত্বাবারানী ১৫১৮৪, সিঃ সহীহাহ ৫৪২)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ ফাযালা ইবন উবায়দ (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৫৯৫

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

 

(২৫৯৫) আয়েশা (রাঃ) বলেন, ’আমি মাসিক অবস্থায় কোন কিছু পান করে সে পানপাত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দিতাম। তিনি সেখানেই মুখ লাগিয়ে পান করতেন, যেখানে আমি মুখ লাগিয়ে ছিলাম। অনুরূপ আমি মাসিক অবস্থায় হাড় থেকে গোশ্ত ছিঁড়ে খেতাম। অতঃপর তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দিতাম। তিনি সেখানেই মুখ লাগিয়ে হাড় থেকে মাংস ছিঁড়ে খেতেন, যেখানে আমি মুখ লাগিয়ে ছিলাম।’

 

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِىَّ ﷺ فَيَضَعُ فَاهُ عَلٰى مَوْضِعِ فِىَّ فَيَشْرَبُ وَأَتَعَرَّقُ الْعَرْقَ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِىَّ ﷺ فَيَضَعُ فَاهُ عَلٰى مَوْضِعِ فِىَّ

 

عن عاىشة قالت كنت اشرب وانا حاىض ثم اناوله النبى ﷺ فيضع فاه على موضع فى فيشرب واتعرق العرق وانا حاىض ثم اناوله النبى ﷺ فيضع فاه على موضع فى

(আহমাদ ২৪৩২৮, মুসলিম ৭১৮)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৫৯৬

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

 

(২৫৯৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তির দু’জন স্ত্রী আছে, কিন্তু সে তাদের মধ্যে একজনের দিকে ঝুঁকে যায়, এরূপ ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার অর্ধদেহ ধসা অবস্থায় উপস্থিত হবে।

 

عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَانَتْ لَهُ امْرَأَتَانِ فَمَالَ إِلٰـى إِحْدَاهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ مَائِلٌ

 

عن ابـي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من كانت له امراتان فمال الـى احداهما جاء يوم القيامة وشقه ماىل

(আহমাদ ২/৩৪৭, আসহাবে সুনান, হাকেম ২/১৮৬, ইবনে হিব্বান ৪১৯৪)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৫৯৭

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার

 

(২৫৯৭) জাবের (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’ইবলীস পানির উপর তার সিংহাসন রেখে (ফিতনা ও পাপের) অভিযান-সৈন্য পাঠায়। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী তার নৈকট্য লাভ করে সে, যে সবচেয়ে বড় ফিতনা সৃষ্টি করতে পারে। অতঃপর প্রত্যেকে কাজের হিসাব দেয়; বলে, ’আমি এই করেছি।’ সে বলে, ’তুমি কিছুই করনি।’ একজন এসে বলে, ’আমি এক দম্পতির মাঝে ঢুকে পরস্পর কলহ বাধিয়ে পরিশেষে তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ছেড়েছি।’ তখন শয়তান সিংহাসন ছেড়ে উঠে এসে তাকে আলিঙ্গন ক’রে বলে, ’হ্যাঁ। (তুমিই কাজের মতো কাজ করেছ!)’’ (মুসলিম ৭২৮৪)

 

عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ إِبْلِيسَ يَضَعُ عَرْشَهُ عَلَى الْمَاءِ ثُمَّ يَبْعَثُ سَرَايَاهُ فَأَدْنَاهُمْ مِنْهُ مَنْزِلَةً أَعْظَمُهُمْ فِتْنَةً يَجِىءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُوْلُ فَعَلْتُ كَذَا وَكَذَا فَيَقُوْلُ مَا صَنَعْتَ شَيْئًا قَالَ ثُمَّ يَجِىءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُوْلُ مَا تَرَكْتُهُ حَتّٰـى فَرَّقْتُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ امْرَأَتِهِ – قَالَ – فَيُدْنِيهِ مِنْهُ وَيَقُوْلُ نِعْمَ أَنْتَ

 

عن جابر قال قال رسول الله ﷺ ان ابليس يضع عرشه على الماء ثم يبعث سراياه فادناهم منه منزلة اعظمهم فتنة يجىء احدهم فيقول فعلت كذا وكذا فيقول ما صنعت شيىا قال ثم يجىء احدهم فيقول ما تركته حتـى فرقت بينه وبين امراته – قال – فيدنيه منه ويقول نعم انت

(মুসলিম ৭২৮৪)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৫৯৮

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ মিলন-রহস্য প্রকাশ

 

(২৫৯৮) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মহিলা যেন কোন মহিলাকে (নগ্ন) আলিঙ্গন করে অতঃপর সে তার স্বামীর নিকট তা বর্ণনা না করে। (যাতে তা শুনে তার স্বামী) যেন ঐ মহিলাকে (মনে) প্রত্যক্ষ দর্শন করে থাকে।

 

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ لَا تُبَاشِرُ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ فَتَنْعَتَهَا لِزَوْجِهَا كَأَنَّهُ يَنْظُرُ إِلَيْهَا

 

عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال قال النبـي ﷺ لا تباشر المراة المراة فتنعتها لزوجها كانه ينظر اليها

(বুখারী ৫২৪০-৫২৪১)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ‌ ইব্‌ন মাসউদ (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য




২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৫৯৯

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ মিলন-রহস্য প্রকাশ

 

(২৫৯৯) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট মানের দিক থেকে সবচেয়ে জঘন্য মানের ব্যক্তি হল সে, যে স্বামী স্ত্রী-মিলন করে এবং যে স্ত্রী স্বামী-মিলন করে, অতঃপর একে অন্যের মিলন-রহস্য (অপরের নিকট) প্রচার করে।

 

عَنْ أَبـِيْ سَعِيْدٍ الْـخُدْرِىَّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ الرَّجُلَ يُفْضِى إِلٰـى امْرَأَتِهِ وَتُفْضِى إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا

 

عن ابـي سعيد الـخدرى قال قال رسول الله ﷺ ان من اشر الناس عند الله منزلة يوم القيامة الرجل يفضى الـى امراته وتفضى اليه ثم ينشر سرها

(মুসলিম ৩৬১৫, আবূ দাঊদ ৪৮৭০)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬০০

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ মিলন-রহস্য প্রকাশ

 

(২৬০০) আসমা বিনতে ইয়াযিদ (রাঃ) বলেন, একদা আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম, আর তাঁর সেখানে অনেক পুরুষ ও মহিলাও বসেছিল। তিনি বললেন, সম্ভবতঃ কোন পুরুষ নিজ স্ত্রীর সাথে যা করে তা (অপরের কাছে) বলে থাকে এবং সম্ভবতঃ কোন মহিলা নিজ স্বামীর সাথে যা করে তা (অপরের নিকট) বলে থাকে? এ কথা শুনে মজলিসের সবাই কোন উত্তর না দিয়ে চুপ থেকে গেল। আমি বললাম, ’জী হ্যাঁ। আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রসূল! মহিলারা তা বলে থাকে এবং পুরুষরাও তা বলে থাকে।’ অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা এরূপ করো না। যেহেতু এমন ব্যক্তি তো সেই শয়তানের মত, যে কোন নারী-শয়তানকে রাস্তায় পেয়ে সঙ্গম করতে লাগে, আর লোকেরা তার দিকে চেয়ে চেয়ে দেখে।

 

عَنْ أَسْمَاء بِنْتِ يَزِيدَ أَنَّهَا كَانَتْ عِنْدَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَالرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ قُعُودٌ عِنْدَهُ فَقَالَ لَعَلَّ رَجُلًا يَقُوْلُ مَا يَفْعَلُ بِأَهْلِهِ وَلَعَلَّ امْرَأَةً تُخْبِرُ بِمَا فَعَلَتْ مَعَ زَوْجِهَا فَأَرَمَّ الْقَوْمُ فَقُلْتُ إِي وَاللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّهُنَّ لَيَقُلْنَ وَإِنَّهُمْ لَيَفْعَلُونَ، قَالَ فَلَا تَفْعَلُوا فَإِنَّمَا ذٰلِكَ مِثْلُ الشَّيْطَانِ لَقِيَ شَيْطَانَةً فِي طَرِيقٍ فَغَشِيَهَا وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ

 

عن اسماء بنت يزيد انها كانت عند رسول الله ﷺ والرجال والنساء قعود عنده فقال لعل رجلا يقول ما يفعل باهله ولعل امراة تخبر بما فعلت مع زوجها فارم القوم فقلت اي والله يا رسول الله انهن ليقلن وانهم ليفعلون، قال فلا تفعلوا فانما ذلك مثل الشيطان لقي شيطانة في طريق فغشيها والناس ينظرون

(আহমাদ ২৭৫৮৩, ইবনে আবী শাইবাহ, আবূ দাঊদ ২১৭৬, বাইহাকী প্রভৃতি, আদাবুয যিফাফ ১৪৩পৃঃ)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আসমা বিনতু ইয়াযীদ ইবনুস সাকান (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬০১

বাংলা/আরবী

 

 

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

আল্লাহ তাআলা বলেন,

 

اَلرِّجَالُ قَوَّامُوْنَ عَلَـى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللهُ بَعْضَهُمْ عَلٰى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَالصَّالِـحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللهُ

 

অর্থাৎ, পুরুষ নারীর কর্তা। কারণ, আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এ জন্য যে পুরুষ (তাদের জন্য) ধন ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যময়ী নারীরা অনুগতা এবং পুরুষের অনুপস্থিতিতে লোক-চক্ষুর অন্তরালে (স্বামীর ধন ও নিজেদের ইজ্জত) রক্ষাকারিণী; আল্লার হিফাযতে (আদেশ ও তওফীকে) তারা তা হিফাযত করে। (সূরা নিসা ৩৪)

 

(২৬০১) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিজ বিছানায় ডাকে এবং সে না আসে, অতঃপর সে (স্বামী) তার প্রতি রাগান্বিত অবস্থায় রাত কাটায়, তাহলে ফিরিশতাগণ তাকে সকাল অবধি অভিসম্পাত করতে থাকেন।

 

অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, যখন স্ত্রী নিজ স্বামীর বিছানা ত্যাগ করে (অন্যত্র) রাত্রিযাপন করে, তখন ফিরিশতাবর্গ সকাল পর্যন্ত তাকে অভিশাপ দিতে থাকেন।

 

আর এক বর্ণনায় আছে যে, ’’সেই আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! কোন স্বামী তার স্ত্রীকে নিজ বিছানার দিকে আহবান করার পর সে আসতে অস্বীকার করলে যিনি আকাশে আছেন তিনি (আল্লাহ) তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন, যে পর্যন্ত না স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যায়। (বুখারী ৫১৯৩, মুসলিম ১৪৩৬, আবূ দাউদ ২১৪১, নাসাঈ)

 

وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امرَأتَهُ إِلٰـى فرَاشِهِ فَلَمْ تَأتِهِ فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا، لَعَنَتْهَا المَلَائِكَةُ حَتّٰـى تُصْبحَ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

وَفي رِوَايَةٍ لَهُمَا إِذَا بَاتَتِ المَرأةُ هَاجِرَةً فِرَاشَ زَوْجِهَا لَعَنَتْهَا المَلَائِكَةُ حَتّٰـى تُصْبحَ

وَفي رِوَايَةٍ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ والَّذِي نَفْسِي بيَدِهِ مَا مِنْ رَجُلٍ يَدْعُو امْرَأتَهُ إِلٰـى فِرَاشهِ فَتَأبَى عَلَيهِ إلاَّ كَانَ الَّذِي في السَّمَاء سَاخطاً عَلَيْهَا حَتّٰـى يَرْضَى عَنها

 

وعن ابـي هريرة قال : قال رسول الله ﷺ اذا دعا الرجل امراته الـى فراشه فلم تاته فبات غضبان عليها، لعنتها الملاىكة حتـى تصبح متفق عليه وفي رواية لهما اذا باتت المراة هاجرة فراش زوجها لعنتها الملاىكة حتـى تصبح وفي رواية: قال رسول الله ﷺ والذي نفسي بيده ما من رجل يدعو امراته الـى فراشه فتابى عليه الا كان الذي في السماء ساخطا عليها حتـى يرضى عنها

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬০২

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬০২) আবূ উমামা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন ব্যক্তির নামায তাদের মাথা অতিক্রম করে না; পলাতক ক্রীতদাস, যতক্ষণ না সে ফিরে এসেছে, এমন স্ত্রী যার স্বামী তার উপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রিযাপন করেছে, (যতক্ষণ না সে রাজী হয়েছে), (অথবা যে স্ত্রী তার স্বামীর অবাধ্যাচরণ করেছে, সে তার বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত) এবং সেই সম্প্রদায়ের ইমাম, যাকে লোকে অপছন্দ করে।

 

عَنْ أَبِـيْ أُمَامَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَلَاثَةٌ لَا تُجَاوِزُ صَلَاتُهُمْ رُؤوسَهُمِ: الْعَبْدُ الآبِقُ، وَالْمَرْأَةُ تَبِيتُ وَزَوْجُهَا عَلَيْهَا سَاخِطٌ، وَإِمَامٌ أَمَّ قَوْمًا وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ

 

عن ابـي امامة، قال: قال رسول الله ﷺ ثلاثة لا تجاوز صلاتهم رووسهم: العبد الابق، والمراة تبيت وزوجها عليها ساخط، وامام ام قوما وهم له كارهون

(তিরমিযী ৩৬০, ত্বাবারানী ৮০১৬, হাকেম, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৮৮, ৬৫০)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবূ উমামাহ্ বাহিলী (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬০৩

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬০৩) আবূ আলী ত্বালক ইবনে আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার প্রয়োজনে আহবান করবে, তখন সে যেন (তৎক্ষণাৎ) তার নিকট যায়। যদিও সে উনানের কাছে (রুটি ইত্যাদি পাকানোর কাজে ব্যস্ত) থাকে।

 

وَعَنْ أَبِـيْ عَلِيِّ طَلْقِ بنِ عَلِيِّ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا دَعَا الرَّجُلُ زَوْجَتهُ لِـحَاجَتِهِ فَلْتَأتِهِ وَإنْ كَانَتْ عَلَى التَّنُوْرِ رواه الترمذي والنسائي وَقالَ الترمذي حديث حسن صحيح

 

وعن ابـي علي طلق بن علي ان رسول الله ﷺ قال اذا دعا الرجل زوجته لـحاجته فلتاته وان كانت على التنور رواه الترمذي والنساىي وقال الترمذي حديث حسن صحيح

(তিরমিযী ১১৬০, সহীহুল জামে ৫৩৪)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ তালক ইবনে আলী (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬০৪

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬০৪) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া কোন নারীর জন্য (নফল) রোযা রাখা বৈধ নয় এবং স্বামীর সম্মতি ব্যতিরেকে তার ঘরে কাউকে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়াও তার জন্য বৈধ নয়। (বুখারী ৫১৯৫, মুসলিম ২৪১৭, শব্দগুলি বুখারীর)

 

অন্য এক বর্ণনায় আছে

 

لَا تَصُوْمُ الْمَرْأَةُ يَوْمًا تَطَوُّعًا فِـيْ غَيْرِ رَمَضَانَ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ إِلاَّ بِإِذْنِهِ

 

মহিলা যেন স্বামীর বর্তমানে তার বিনা অনুমতিতে রমযানের রোযা ছাড়া একটি দিনও রোযা না রাখে। (দারেমী ১৭২০, সিলসিলা আহাদীসুস সহীহা ৩৯৫)

 

وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَا يَحِلُّ لِاِمْرَأةٍ أنْ تَصُوْمَ وزَوْجُهَا شَاهدٌ إلاَّ بإذْنِهِ وَلَا تَأذَنَ في بَيْتِهِ إلاَّ بِإذنِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ وهذا لفظ البخاري

 

وعن ابـي هريرة ان رسول الله ﷺ قال لا يحل لامراة ان تصوم وزوجها شاهد الا باذنه ولا تاذن في بيته الا باذنه متفق عليه وهذا لفظ البخاري

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬০৫

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬০৫) আমর বিন আহওয়াস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বিদায়ী হজ্জের ভাষণে) বলেছেন, তোমাদের স্ত্রীর উপর তোমাদের অধিকার এই যে, (তোমাদের অবর্তমানে) তোমরা যাকে অপছন্দ ও ঘৃণা কর, তাকে তোমাদের শয্যা দলন করতে যেন সুযোগ না দেয় এবং যাকে অপছন্দ কর তাকে তোমাদের গৃহে (প্রবেশের জন্য) যেন অনুমতি না দেয়।

 

عَنْ عَمْرِو بْنِ الْأَحْوَصِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَأَمَّا حَقُّكُمْ عَلٰـى نِسَائِكُمْ فَلَا يَطَئَنَّ فِرَاشَكُمْ مَنْ تُكْرَهُوْنَ وَلَا يَأْذَنْ فِيْ بُيُوْتِكُمْ لِـمَنْ تُكْرَهُوْنَ

 

عن عمرو بن الاحوص قال قال رسول الله ﷺ فاما حقكم علـى نساىكم فلا يطىن فراشكم من تكرهون ولا ياذن في بيوتكم لـمن تكرهون

(তিরমিযী ১১৬৩, ৩০৮৭ হাসান সহীহ)

 হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬০৬

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬০৬) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাবারাকা অতাআলা সেই মহিলার প্রতি চেয়েও দেখবেন না, যে তার স্বামীর কৃতজ্ঞতা আদায় করে না; অথচ সে তার মুখাপেক্ষিণী। (নাসাঈ কুবরা ৯১৩৫, ত্বাবারানী, বাযযার ২৩৪৯, হাকেম ২৭৭১, বাইহাকী ১৪৪৯৭, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৮৯)

 

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ نَبِىَّ اللهِ ﷺ قَالَ لَا يَنْظُرُ اللهُ إِلٰـى امْرَأَةٍ لَا تَشْكُرُ لِزَوْجِهَا وَهِىَ لَا تَسْتَغْنِى عَنْهُ

 

عن عبد الله بن عمرو ان نبى الله ﷺ قال لا ينظر الله الـى امراة لا تشكر لزوجها وهى لا تستغنى عنه

[কথায় বলে, ‘মেয়ে লোকের এমনি স্বভাব, হাজার দিলেও যায় না অভাব।’ স্বামীর কৃতঘ্নতা করা স্ত্রীর এক সহজাত অভ্যাস। হাজার করলেও অন্যের স্বামী তার নজরে ভালো হয়। স্বামীর কৃতঘ্নতা (নাশুকরি) করা, তার অনুগ্রহ ও এহসান ভুলা, তার বিরুদ্ধে খামোখা নানান অভিযোগ তোলা, তাকে লানত করা এবং সে ‘হিরো’ হলেও তাকে ‘জিরো’ ভাবা ইত্যাদি কারণেই নারী জাতির অধিকাংশই জাহান্নামী হবে। (বুখারী ২৯, ৪৩১ প্রভৃতি , মুসলিম প্রমুখ)]

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬০৭

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬০৭) আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মহিলাদেরকে সম্বোধন করে) বললেন, হে মহিলা সকল! তোমরা সাদকাহ-খয়রাত করতে থাক ও অধিকমাত্রায় ইস্তিগফার কর। কারণ আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসীরূপে দেখলাম। একজন জ্ঞানী মহিলা নিবেদন করল, ’আমাদের অধিকাংশ জাহান্নামী হওয়ার কারণ কী? হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, তোমরা অভিশাপ বেশি কর এবং নিজ স্বামীর অকৃতজ্ঞতা কর। বুদ্ধি ও ধর্মে অপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বিচক্ষণ ব্যক্তির উপর তোমাদের চাইতে আর কাউকে বেশি প্রভাব খাটাতে দেখিনি। মহিলাটি আবার নিবেদন করল, ’বুদ্ধি ও ধর্মের ক্ষেত্রে অপূর্ণতা কী?’ তিনি বললেন, ’’দু’জন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্য সমতুল্য। আর (প্রসবোত্তর খুন ও মাসিক আসার) দিনগুলিতে মহিলা নামায পড়া বন্ধ রাখে।

 

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ وَأَكْثِرْنَ الاِسْتِغْفَارَ فَإِنِّى رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ جَزْلَةٌ وَمَا لَنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ قَالَ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ وَمَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَغْلَبَ لِذِى لُبٍّ مِنْكُنَّ قَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ وَمَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ وَالدِّينِ قَالَ أَمَّا نُقْصَانُ الْعَقْلِ فَشَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ تَعْدِلُ شَهَادَةَ رَجُلٍ فَهٰذَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ وَتَمْكُثُ اللَّيَالِىَ مَا تُصَلِّى وَتُفْطِرُ فِى رَمَضَانَ فَهٰذَا نُقْصَانُ الدِّينِ

 

عن عبد الله بن عمر عن رسول الله ﷺ انه قال يا معشر النساء تصدقن واكثرن الاستغفار فانى رايتكن اكثر اهل النار فقالت امراة منهن جزلة وما لنا يا رسول الله اكثر اهل النار قال تكثرن اللعن وتكفرن العشير وما رايت من ناقصات عقل ودين اغلب لذى لب منكن قالت يا رسول الله وما نقصان العقل والدين قال اما نقصان العقل فشهادة امراتين تعدل شهادة رجل فهذا نقصان العقل وتمكث الليالى ما تصلى وتفطر فى رمضان فهذا نقصان الدين

(মুসলিম ২৫০, বুখারী ২০৪ আবূ সাঈদ কর্তৃক)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬০৮

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬০৮) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাকে জাহান্নাম দেখানো হল। আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসিনী হল মহিলা। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, তা কী জন্য হে আল্লাহর রসূল? বললেন, তাদের কুফরীর জন্য। তাঁরা বললেন, আল্লাহর সাথে কুফরী? তিনি বললেন, (না, তারা স্বামীর কুফরী (অকৃতজ্ঞতা) ও নিমকহারামি করে। তাদের কারো প্রতি যদি সারা জীবন এহসানী কর, অতঃপর সে যদি তোমার নিকট সামান্য ত্রুটি লক্ষ্য করে, তাহলে ব’লে বসে, তোমার নিকট কোন মঙ্গল দেখলাম না আমি!

 

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ أُرِيتُ النَّارَ فَإِذَا أَكْثَرُ أَهْلِهَا النِّسَاءُ يَكْفُرْنَ قِيلَ أَيَكْفُرْنَ بِاللهِ قَالَ يَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ وَيَكْفُرْنَ الْإِحْسَانَ لَوْ أَحْسَنْتَ إِلٰـى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ

 

عن ابن عباس قال قال النبـي ﷺ اريت النار فاذا اكثر اهلها النساء يكفرن قيل ايكفرن بالله قال يكفرن العشير ويكفرن الاحسان لو احسنت الـى احداهن الدهر ثم رات منك شيىا قالت ما رايت منك خيرا قط

(বুখারী ২৯, মুসলিম ২১৪৭)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬০৯

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬০৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি যদি কাউকে কারো জন্য সিজদাহ করার আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদাহ করে।

 

وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبيِّ ﷺ قَالَ لَوْ كُنْتُ آمِراً أحَداً أنْ يَسْجُدَ لأحَدٍ لَامَرْتُ المَرأةَ أنْ تَسْجُدَ لزَوجِهَا رواه الترمذي وَقالَ حديث حسن صحيح

 

وعن ابـي هريرة عن النبي ﷺ قال لو كنت امرا احدا ان يسجد لاحد لامرت المراة ان تسجد لزوجها رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح

(তিরমিযী ১১৫৯, হাসান সহীহ)

 হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)  বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬১০

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬১০) আব্দুল্লাহ বিন আবী আউফা (রাঃ) বলেন, মুআয যখন শাম (দেশ) থেকে ফিরে এলেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সিজদা করলেন। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’একি মুআয?’’ মুআয বললেন, ’আমি শাম গিয়ে দেখলাম, সে দেশের লোকেরা তাদের যাজক ও পাদ্রীগণকে সিজদা করছে। তাই আমি মনে মনে চাইলাম যে, আমরাও আপনার জন্য সিজদা করব।’ তা শুনে তিনি বললেন ’’খবরদার! তা করো না। কারণ, আমি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য সিজদা করতে কাউকে আদেশ করতাম, তাহলে মহিলাকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদা করে। সেই সত্তার শপথ; যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আছে! মহিলা তার প্রতিপালক (আল্লাহর) হক ততক্ষণ আদায় করতে পারে না; যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার স্বামীর হক (অধিকার) আদায় করেছে। (স্বামীর অধিকার আদায় করলে তবেই আল্লাহর অধিকার আদায় হবে, নচেৎ না।) এমন কি সে যদি (প্রসবের জন্য বা সফরের জন্য) কোন বাহনের জিনের উপর থাকে, আর সেই অবস্থায় স্বামী তার দেহ-মিলন চায় তাহলে স্ত্রীর, ’না’ বলার অধিকার নেই।

 

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِـيْ أَوْفَى قَالَ قَدِمَ مُعَاذٌ الْيَمَنَ أَوْ قَالَ الشَّامَ فَرَأَى النَّصَارَى تَسْجُدُ لِبَطَارِقَتِهَا وَأَسَاقِفَتِهَا فَرَوَّأَ فِي نَفْسِهِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ أَحَقُّ أَنْ يُعَظَّمَ فَلَمَّا قَدِمَ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ رَأَيْتُ النَّصَارَى تَسْجُدُ لِبَطَارِقَتِهَا وَأَسَاقِفَتِهَا فَرَوَّأْتُ فِي نَفْسِي أَنَّكَ أَحَقُّ أَنْ تُعَظَّمَ فَقَالَ لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا وَلَا تُؤَدِّي الْمَرْأَةُ حَقَّ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْهَا كُلَّهُ حَتّٰـى تُؤَدِّيَ حَقَّ زَوْجِهَا عَلَيْهَا كُلَّهُ حَتّٰـى لَوْ سَأَلَهَا نَفْسَهَا وَهِيَ عَلٰى ظَهْرِ قَتَبٍ لَأَعْطَتْهُ إِيَّاهُ

 

عن عبد الله بن ابـي اوفى قال قدم معاذ اليمن او قال الشام فراى النصارى تسجد لبطارقتها واساقفتها فروا في نفسه ان رسول الله ﷺ احق ان يعظم فلما قدم قال يا رسول الله رايت النصارى تسجد لبطارقتها واساقفتها فروات في نفسي انك احق ان تعظم فقال لو كنت امرا احدا ان يسجد لاحد لامرت المراة ان تسجد لزوجها ولا تودي المراة حق الله عز وجل عليها كله حتـى تودي حق زوجها عليها كله حتـى لو سالها نفسها وهي على ظهر قتب لاعطته اياه

(ইবনে মাজাহ ১৮৫৩, আহমাদ ৪/৩৮১, ইবনে হিব্বান ৪১৭১, হাকেম ৪/১৭২, বাযযার ১৪৬১, সিলসিলাহ সহীহাহ ১২০৩)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬১১

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬১১) ক্বাইস বিন সা’দ বলেন, আমি হীরাহ গেলাম। সেখানকার লোকেদেরকে দেখলাম, তারা তাদের সর্দারকে সিজদা করছে। তাই আমি (মনে মনে) বললাম, ’রাসূলুল্লাহ সিজদার বেশি হকদার।’ অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললাম, ’আমি হীরাহ গেলাম। দেখলাম, সেখানকার লোকেরা তাদের সর্দারকে সিজদা করছে। সুতরাং আপনি হে আল্লাহর রসূল! আমাদের সিজদার বেশি হকদার।’ তিনি বললেন, কী রায় তোমার, আমার কবরের পাশ দিয়ে গেলে তুমি কি তা সিজদা করবে? আমি বললাম, ’না।’ তিনি বললেন, ’’তোমরা তা করো না। যদি আমি কাউকে অপরজনকে সিজদা করার আদেশ দিতাম, তাহলে মহিলাদেরকে আদেশ করতাম, তারা যেন তাদের স্বামীকে সিজদা করে। যেহেতু আল্লাহ তাদের উপর (তাদের স্বামীদের বহু) অধিকার রেখেছেন।

 

عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ أَتَيْتُ الْحِيرَةَ فَرَأَيْتُهُمْ يَسْجُدُونَ لِمَرْزُبَانٍ لَهُمْ فَقُلْتُ رَسُوْلُ اللهِ أَحَقُّ أَنْ يُسْجَدَ لَهُ قَالَ فَأَتَيْتُ النَّبِىَّ ﷺ فَقُلْتُ إِنِّى أَتَيْتُ الْحِيرَةَ فَرَأَيْتُهُمْ يَسْجُدُونَ لِمَرْزُبَانٍ لَهُمْ فَأَنْتَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَحَقُّ أَنْ نَسْجُدَ لَكَ قَالَ أَرَأَيْتَ لَوْ مَرَرْتَ بِقَبْرِى أَكُنْتَ تَسْجُدُ لَهُ قَالَ قُلْتُ لَا قَالَ فَلَا تَفْعَلُوا لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لأَحَدٍ لأَمَرْتُ النِّسَاءَ أَنْ يَسْجُدْنَ لأَزْوَاجِهِنَّ لِمَا جَعَلَ اللهُ لَهُمْ عَلَيْهِنَّ مِنَ الْحَقِّ

 

عن قيس بن سعد قال اتيت الحيرة فرايتهم يسجدون لمرزبان لهم فقلت رسول الله احق ان يسجد له قال فاتيت النبى ﷺ فقلت انى اتيت الحيرة فرايتهم يسجدون لمرزبان لهم فانت يا رسول الله احق ان نسجد لك قال ارايت لو مررت بقبرى اكنت تسجد له قال قلت لا قال فلا تفعلوا لو كنت امرا احدا ان يسجد لاحد لامرت النساء ان يسجدن لازواجهن لما جعل الله لهم عليهن من الحق

(আবূ দাঊদ ২১৪০)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ কায়েস ইবনু সা‘দ আনসারী (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬১২

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬১২) আনাস বিন মালিক (রাঃ) বলেন, মদীনার আনসারদের এক লোকের বাড়িতে একটি সেচক উট ছিল। হঠাৎ করে সে তার পিঠে কাউকে চড়তে দিচ্ছিল না। সে বাড়ির লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ’আমাদের একটি উট আছে, তার দ্বারা আমরা পানি তুলে জমি সেচ করি। এখন তাকে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে গেছে। সে আমাদেরকে তার পিঠেও চড়তে দেয় না। ক্ষেতের ফসল ও খেজুর গাছে সেচ দেওয়ার সময় হয়েছে। (কী করা যায়?)

 

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাগণকে বললেন, ’’চলো দেখে আসি।’’ সুতরাং তাঁরা গিয়ে বাগানে প্রবেশ করলেন। উটটি তার এক প্রান্তে ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে অগ্রসর হলেন। লোকেরা বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! ও এখন কুকুরের মতো হয়ে আছে। আমাদের ভয় হচ্ছে, ও আপনাকে আক্রমণ করবে।’ তিনি বললেন, ’’ও আমার কোন ক্ষতি করবে না।’’

 

সুতরাং উটটি যখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে তাকিয়ে দেখল, তখন তাঁর দিকে অগ্রসর হয়ে তাঁর সামনে সিজদায় পতিত হল! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কপালে ধরলে সে সবচেয়ে শান্ত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি তাকে কাজে প্রবেশ করালেন।

 

এ ঘটনা দর্শন করে সাহাবাগণ তাঁকে বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! এ একটি পশু, যার জ্ঞান-বুদ্ধি নেই, সে আপনাকে সিজদা করছে! আর আমরা তো জ্ঞান-বুদ্ধি রাখি। সুতরাং আমরা আপনাকে সিজদা করার বেশি হকদার।’

 

তিনি বললেন, ’’কোন মানুষের জন্য কোন মানুষকে সিজদা করা সঙ্গত নয়। কোন মানুষের জন্য কোন মানুষকে সিজদা করা সঙ্গত হলে আমি মহিলাকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদা করে। যেহেতু তার উপর স্বামীর বিশাল অধিকার রয়েছে। সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে, স্বামীর পা থেকে মাথার সিঁথি পর্যন্ত যদি এমন ঘা থাকে, যাতে রক্ত-পুঁজ ঝরে পড়ছে, অতঃপর তা যদি স্ত্রী চাঁটে, তবুও তার অধিকার আদায় করতে সক্ষম হবে না।

 

عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ أَهْلُ بَيْتٍ مِنْ الْأَنْصَارِ لَهُمْ جَمَلٌ يَسْنُونَ عَلَيْهِ وَإِنَّ الْجَمَلَ اسْتُصْعِبَ عَلَيْهِمْ فَمَنَعَهُمْ ظَهْرَهُ وَإِنَّ الْأَنْصَارَ جَاءُوا إِلٰـى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالُوا إِنَّهُ كَانَ لَنَا جَمَلٌ نُسْنِي عَلَيْهِ وَإِنَّهُ اسْتُصْعِبَ عَلَيْنَا وَمَنَعَنَا ظَهْرَهُ وَقَدْ عَطِشَ الزَّرْعُ وَالنَّخْلُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لِأَصْحَابِهِ قُومُوا فَقَامُوا فَدَخَلَ الْحَائِطَ وَالْجَمَلُ فِي نَاحِيَةٍ فَمَشَى النَّبِيُّ ﷺ نَحْوَهُ فَقَالَتْ الْأَنْصَارُ يَا نَبِيَّ اللهِ إِنَّهُ قَدْ صَارَ مِثْلَ الْكَلْبِ الْكَلِبِ وَإِنَّا نَخَافُ عَلَيْكَ صَوْلَتَهُ فَقَالَ لَيْسَ عَلَيَّ مِنْهُ بَأْسٌ فَلَمَّا نَظَرَ الْجَمَلُ إِلٰـى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ أَقْبَلَ نَحْوَهُ حَتّٰـى خَرَّ سَاجِدًا بَيْنَ يَدَيْهِ فَأَخَذَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بِنَاصِيَتِهِ أَذَلَّ مَا كَانَتْ قَطُّ حَتّٰـى أَدْخَلَهُ فِي الْعَمَلِ فَقَالَ لَهُ أَصْحَابُهُ يَا رَسُوْلَ اللهِ هَذِهِ بَهِيمَةٌ لَا تَعْقِلُ تَسْجُدُ لَكَ وَنَحْنُ نَعْقِلُ فَنَحْنُ أَحَقُّ أَنْ نَسْجُدَ لَكَ فَقَالَ لَا يَصْلُحُ لِبَشَرٍ أَنْ يَسْجُدَ لِبَشَرٍ وَلَوْ صَلَحَ لِبَشَرٍ أَنْ يَسْجُدَ لِبَشَرٍ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا مِنْ عِظَمِ حَقِّهِ عَلَيْهَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ كَانَ مِنْ قَدَمِهِ إِلٰـى مَفْرِقِ رَأْسِهِ قُرْحَةً تَنْبَجِسُ بِالْقَيْحِ وَالصَّدِيدِ ثُمَّ اسْتَقْبَلَتْهُ فَلَحَسَتْهُ مَا أَدَّتْ حَقَّهُ

 

عن انس بن مالك قال كان اهل بيت من الانصار لهم جمل يسنون عليه وان الجمل استصعب عليهم فمنعهم ظهره وان الانصار جاءوا الـى رسول الله ﷺ فقالوا انه كان لنا جمل نسني عليه وانه استصعب علينا ومنعنا ظهره وقد عطش الزرع والنخل فقال رسول الله ﷺ لاصحابه قوموا فقاموا فدخل الحاىط والجمل في ناحية فمشى النبي ﷺ نحوه فقالت الانصار يا نبي الله انه قد صار مثل الكلب الكلب وانا نخاف عليك صولته فقال ليس علي منه باس فلما نظر الجمل الـى رسول الله ﷺ اقبل نحوه حتـى خر ساجدا بين يديه فاخذ رسول الله ﷺ بناصيته اذل ما كانت قط حتـى ادخله في العمل فقال له اصحابه يا رسول الله هذه بهيمة لا تعقل تسجد لك ونحن نعقل فنحن احق ان نسجد لك فقال لا يصلح لبشر ان يسجد لبشر ولو صلح لبشر ان يسجد لبشر لامرت المراة ان تسجد لزوجها من عظم حقه عليها والذي نفسي بيده لو كان من قدمه الـى مفرق راسه قرحة تنبجس بالقيح والصديد ثم استقبلته فلحسته ما ادت حقه

(আহমাদ ১২৬১৪, নাসাঈ, বাযযার, সঃ তারগীব ১৯৩৬)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬১৩

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬১৩) আবূ সাঈদ (রাঃ) ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, এক ব্যক্তি তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার এই মেয়েটি বিয়ে করতে অস্বীকার করছে। (কী করা যায়।) আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ’’তুমি তোমার আববার কথা মেনে নাও। মেয়েটি বলল, আপনি বলুন, স্ত্রীর উপর তার স্বামীর হক কী? তিনি বললেন, স্বামীর এত বড় হক আছে যে, যদি তার নাকের দুই ছিদ্র থেকে রক্ত-পুঁজ বের হয় এবং স্ত্রী তা নিজের জিভ দ্বারা চেঁটে (পরিষ্কার করে), তবুও সে তার যথার্থ হক আদায় করতে পারবে না! যদি মানুষের জন্য মানুষকে সিজদা করা সঙ্গত হত, তাহলে আমি স্ত্রীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামী কাছে এলে তাকে সিজদা করে। যেহেতু আল্লাহ স্বামীকে স্ত্রীর উপর এত বড় মর্যাদা দান করেছেন। মেয়েটি বলল, সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য সহ প্রেরণ করেছেন! দুনিয়ায় বেঁচে থাকতে আমি বিয়েই করব না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ওদের অনুমতি ছাড়া ওদের বিবাহ দিয়ো না।

 

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ بِابْنَةٍ لَهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: هَذِهِ ابْنَتِي أَبَتْ أَنْ تَزَوَّجَ، فَقَالَ: أَطِيعِي أَبَاكِ كُلُّ ذٰلِكَ تُرَدِّدُ عَلَيْهِ مَقَالَتَهَا، فَقَالَتْ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا أَتَزَوَّجُ حَتَّى تُخْبِرَنِي مَا حَقُّ الزَّوْجِ عَلَى زَوْجَتِهِ، فَقَالَ: حَقُّ الزَّوْجِ عَلَى زَوْجَتِهِ لَوْ كَانَتْ بِهِ قُرْحَةٌ، فَلَحَسَتْهَا مَا أَدَّتْ حَقَّهُ، فَقَالَتْ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا أَتَزَوَّجُ أَبَدًا، فَقَالَ: لَا تُنْكِحُوهُنَّ إِلَّا بِإِذْنِهِنَّ

 

عن ابي سعيد، قال: جاء رجل بابنة له الى النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: هذه ابنتي ابت ان تزوج، فقال: اطيعي اباك كل ذلك تردد عليه مقالتها، فقالت: والذي بعثك بالحق لا اتزوج حتى تخبرني ما حق الزوج على زوجته، فقال: حق الزوج على زوجته لو كانت به قرحة، فلحستها ما ادت حقه، فقالت: والذي بعثك بالحق لا اتزوج ابدا، فقال: لا تنكحوهن الا باذنهن

(নাসাঈ কুবরা ৫৩৬৫, ইবনে আবী শাইবাহ ১৭১২২, সঃ তারগীব ১৯৩৪, বাইহাকী ১৩২৬৩, হাকেম ২৭৬৮, বাযযার ৮৬৩৪ দারাকুতনী ৩৫৭১)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬১৪

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬১৪) মুআয বিন জাবাল (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহিলা যদি স্বামীর হক (যথার্থরূপে) জানতো, তাহলে তার দুপুর অথবা রাতের খাবার খেয়ে শেষ না করা পর্যন্ত সে (তার পাশে) দাঁড়িয়ে থাকতো।

 

عَنْ مُعَاذِ بن جَبَلٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَوْ تَعْلَمُ الْمَرْأَةُ حَقَّ الزَّوْجِ مَا قَعَدَتْ مَا حَضَرَ غَدَاؤُهُ وَعَشَاؤُهُ حَتّٰـى يَفْرُغَ مِنْهُ

 

عن معاذ بن جبل قال: قال رسول الله ﷺ لو تعلم المراة حق الزوج ما قعدت ما حضر غداوه وعشاوه حتـى يفرغ منه

(ত্বাবারানী, সহীহুল জামে’ ৫২৫৯)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬১৫

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬১৫) মুআয বিন জাবাল কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখনই কোন মহিলা দুনিয়াতে নিজ স্বামীকে কষ্ট দেয়, তখনই তার সুনয়না হূর (জান্নাতী) স্ত্রী (অদৃশ্যভাবে) ঐ মহিলার উদ্দেশ্যে বলে, ’আল্লাহ তোকে ধ্বংস করুন। ওকে কষ্ট দিস্ না। ও তো তোর নিকট সাময়িক মেহমান মাত্র। অচিরেই সে তোকে ছেড়ে আমাদের কাছে এসে যাবে।

 

وَعَن مُعَاذِ بنِ جَبَلٍ عن النَّبيّ ﷺ قَالَ لَا تُؤْذِي امْرَأةٌ زَوْجَهَا في الدُّنْيَا إلاَّ قَالَتْ زَوْجَتُهُ مِنَ الحُورِ العِينِ لَا تُؤذِيهِ قَاتَلكِ اللهُ فَإِنَّمَا هُوَ عِنْدَكِ دَخِيلٌ يُوشِكُ أنْ يُفَارِقَكِ إِلَيْنَا رواه الترمذي وَقالَ حديث حسن

 

وعن معاذ بن جبل عن النبي ﷺ قال لا توذي امراة زوجها في الدنيا الا قالت زوجته من الحور العين لا توذيه قاتلك الله فانما هو عندك دخيل يوشك ان يفارقك الينا رواه الترمذي وقال حديث حسن

(তিরমিযী ১১৭৪, ইবনে মাজাহ ২০১৪)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬১৬

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬১৬) হুস্বাইন বিন মিহস্বানের এক ফুফু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কোন প্রয়োজনে এলে এবং তা পূরণ হয়ে গেলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি স্বামী আছে? সে বলল, জী হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার কাছে তোমার অবস্থান কী? সে বলল, ’যথাসাধ্য আমি তার সেবা করি।’ তিনি বললেন, ’’খেয়াল করো, তার কাছে তোমার অবস্থান কোথায়। যেহেতু সে তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।

 

عَنِ الْحُصَيْنِ بْنِ مِحْصَنٍ أَنَّ عَمَّةً لَهُ أَتَتْ النَّبِيَّ ﷺ فِي حَاجَةٍ فَفَرَغَتْ مِنْ حَاجَتِهَا فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ ﷺ أَذَاتُ زَوْجٍ أَنْتِ قَالَتْ نَعَمْ قَالَ كَيْفَ أَنْتِ لَهُ قَالَتْ مَا آلُوهُ إِلَّا مَا عَجَزْتُ عَنْهُ قَالَ فَانْظُرِي أَيْنَ أَنْتِ مِنْهُ فَإِنَّمَا هُوَ جَنَّتُكِ وَنَارُكِ

 

عن الحصين بن محصن ان عمة له اتت النبي ﷺ في حاجة ففرغت من حاجتها فقال لها النبي ﷺ اذات زوج انت قالت نعم قال كيف انت له قالت ما الوه الا ما عجزت عنه قال فانظري اين انت منه فانما هو جنتك ونارك

(আহমাদ ১৯০০৩, নাসাঈ, হাকেম, বাইহাক্বী)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬১৭

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬১৭) উম্মে হাবীবাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, তার জন্য তিনদিনের বেশী কোন মৃতের উপর শোকপালন করা বৈধ নয়, কেবল স্বামী ছাড়া। সে ক্ষেত্রে সে ৪ মাস ১০ দিন শোকপালন করবে।

 

عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ قالت قال النَّبِىَّ ﷺ لَا يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ فَوْقَ ثَلَاثٍ إِلاَّ عَلٰى زَوْجٍ فَإِنَّهَا تُحِدُّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا

 

عن ام حبيبة قالت قال النبى ﷺ لا يحل لامراة تومن بالله واليوم الاخر ان تحد فوق ثلاث الا على زوج فانها تحد عليه اربعة اشهر وعشرا

(বুখারী ১২৮০, মুসলিম ৩৮০২)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ উম্মু হাবীবা (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬১৮

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

 

(২৬১৮) ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল। সুতরাং প্রত্যেকেই অবশ্যই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল। সে তার দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জবাবদিহী করবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল। অতএব সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামী ও সন্তানের দায়িত্বশীল। কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। অতএব প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।

 

وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ الله عنهما، عَن النَّبيّ ﷺ قَالَ كُلُّكُم رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ: وَالأمِيرُ رَاعٍ والرَّجُلُ رَاعٍ عَلٰى أهْلِ بَيتِهِ وَالمَرْأةُ رَاعِيةٌ عَلٰى بَيْتِ زَوْجها وَوَلَدهِ فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

 

وعن ابن عمر رضي الله عنهما، عن النبي ﷺ قال كلكم راع وكلكم مسوول عن رعيته: والامير راع والرجل راع على اهل بيته والمراة راعية على بيت زوجها وولده فكلكم راع وكلكم مسوول عن رعيته متفق عليه

(বুখারী ২৪০৯, মুসলিম ৪৮২৮)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য



  1. হাদীস সম্ভার

 

২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬১৯

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ নারী ফিতনা

 

(২৬১৯) উসামা বিন যায়দ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার গত হওয়ার পরে পুরুষের পক্ষে নারীর চেয়ে অধিকতর ক্ষতিকর কোন ফিতনা অন্য কিছু ছেড়ে যাচ্ছি না।

 

عَنْ أُسَامَـةَ بْـنِ زَيْـدٍ رَضِـيَ اللهُ عَـنْـهُمَـا عَـنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا تَرَكْتُ بَـعْـدِي فِـتْـنَـةً أَضَرَّ عَلَـى الرِّجَـالِ مِنْ الـنِّـسَاءِ

 

عن اسامـة بـن زيـد رضـي الله عـنـهمـا عـن النبي ﷺ قال ما تركت بـعـدي فـتـنـة اضر علـى الرجـال من الـنـساء

(আহমাদ, বুখারী ৫০৯৬, মুসলিম ৭১২২, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬২০

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ নারী ফিতনা

 

(২৬২০) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুনিয়া হল সুমিষ্ট ও শ্যামল। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে তাতে খলীফা বানিয়েছেন, যাতে তিনি দেখে নেন যে, তোমরা কেমন আমল কর। অতএব তোমরা দুনিয়া ও নারীর ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। আর জেনে রেখো যে, বনী ইসরাঈলের প্রথম ফিতনা যা ছিল, তা ছিল নারীকে কেন্দ্র করে।

 

عَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ إِنَّ الدُّنْيَا حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ وَإِنَّ اللهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا فَيَنْظُرُ كَيْفَ تَعْمَلُونَ فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِى إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِى النِّسَاءِ

 

عن ابى سعيد الخدرى عن النبى ﷺ قال ان الدنيا حلوة خضرة وان الله مستخلفكم فيها فينظر كيف تعملون فاتقوا الدنيا واتقوا النساء فان اول فتنة بنى اسراىيل كانت فى النساء

(আহমাদ, মুসলিম ২৭৪২, তিরমিযী ২১৯১, ইবনে মাজাহ ৪০০০)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬২১

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ নারী ফিতনা

 

(২৬২১) আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর বান্দীদেরকে মসজিদে আসতে বারণ করো না, তবে তারা যেন খোশবূ ব্যবহার না করে সাদাসিধাভাবে আসে।

 

عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللهِ مَسَاجِدَ اللهِ وَلَكِنْ لِيَخْرُجْنَ وَهُنَّ تَفِلَاتٌ

 

عن ابـى هريرة ان رسول الله ﷺ قال لا تمنعوا اماء الله مساجد الله ولكن ليخرجن وهن تفلات

(আহমাদ ৯৬৪৫, আবূ দাঊদ ৫৬৫, সহীহুল জামে’ ৭৪৫৭)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬২২

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ নারী ফিতনা

 

(২৬২২) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কোন কিছুতে কুলক্ষণ থাকে, তাহলে তা আছে নারী, বাড়ি ও ঘোড়া (সওয়ারী বা গাড়ি)তে।

 

عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ إِنْ كَانَ الشُّؤْمُ فِي شَيْءٍ فَفِي الدَّارِ وَالْمَرْأَةِ وَالْفَرَسِ

 

عن ابن عمر قال قال النبـي ﷺ ان كان الشوم في شيء ففي الدار والمراة والفرس

(বুখারী ৫০৯৪, মুসলিম ৫৯৪৫)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬২৩

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত

 

আল্লাহ তাআলা বলেন, وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوف অর্থাৎ, তোমরা তাদের সাথে সৎভাবে জীবন যাপন কর। (সূরা নিসা ১৯)

 

তিনি আরো বলেন,

 

وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ وَإِنْ تُصْلِحُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللهَ كَانَ غَفُوراً رَحِيماً

 

অর্থাৎ, তোমরা যতই সাগ্রহে চেষ্টা কর না কেন, স্ত্রীদের প্রতি সমান ভালোবাসা তোমরা কখনই রাখতে পারবে না। তবে তোমরা কোন এক জনের দিকে সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকে পড়ো না এবং অপরকে ঝুলন্ত অবস্থায় ছেড়ে দিয়ো না। আর যদি তোমরা নিজেদের সংশোধন কর ও সংযমী হও, তবে নিশ্চয় আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা নিসা ১২৯)

 

(২৬২৩) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’তোমরা স্ত্রীদের জন্য মঙ্গলকামী হও। কারণ নারীকে পাঁজরের (বাঁকা) হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়ের সবচেয়ে বেশী বাঁকা হল তার উপরের অংশ। যদি তুমি এটাকে সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙ্গে ফেলবে। আর যদি তাকে ছেড়ে দাও তাহলে তো বাঁকাই থাকবে। তাই তোমরা নারীদের জন্য মঙ্গলকামী হও।’’ (বুখারী ৩৩৩১, মুসলিম ৩৭২০)

 

বুখারী ও মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’’মহিলা পাঁজরের হাড়ের মত। যদি তুমি তাকে সোজা করতে চাও, তবে তুমি তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর যদি তুমি তার দ্বারা উপকৃত হতে চাও, তাহলে তার এ বাঁকা অবস্থাতেই হতে হবে।’’ (বুখারী ৫১৮৪, মুসলিম ৩৭১৭)

 

মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, ’’মহিলাকে পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। সে কখনই একভাবে তোমার জন্য সোজা থাকবে না। এতএব তুমি যদি তার থেকে উপকৃত হতে চাও, তাহলে তার এ বাঁকা অবস্থাতেই হতে হবে। আর যদি তুমি তা সোজা করতে চাও, তাহলে তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর তাকে ভেঙ্গে ফেলা হল তালাক দেওয়া।’’ (মুসলিম ৩৭১৯)

 

وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اسْتَوْصُوا بالنِّسَاءِ خَيْراً ؛ فَإِنَّ المَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلعٍ وَإنَّ أعْوَجَ مَا في الضِّلَعِ أعْلاهُ فَإنْ ذَهَبتَ تُقيمُهُ كَسَرْتَهُ وَإنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أعْوجَ فَاسْتَوصُوا بالنِّساءِ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

وفي رواية في الصحيحين المَرأةُ كالضِّلَعِ إنْ أقَمْتَهَا كَسَرْتَهَا وَإن اسْتَمتَعْتَ بِهَا اسْتَمتَعْتَ وفِيهَا عوَجٌ

وفي رواية لمسلم إنَّ المَرأةَ خُلِقَت مِنْ ضِلَع لَنْ تَسْتَقِيمَ لَكَ عَلٰى طَريقة فإن اسْتَمْتَعْتَ بِهَا اسْتَمْتَعْتَ بِهَا وَفيهَا عوَجٌ وإنْ ذَهَبْتَ تُقِيمُهَا كَسَرْتَها وَكَسْرُهَا طَلَاقُهَا

 

وعن ابـي هريرة قال : قال رسول الله ﷺ استوصوا بالنساء خيرا ؛ فان المراة خلقت من ضلع وان اعوج ما في الضلع اعلاه فان ذهبت تقيمه كسرته وان تركته لم يزل اعوج فاستوصوا بالنساء متفق عليه وفي رواية في الصحيحين المراة كالضلع ان اقمتها كسرتها وان استمتعت بها استمتعت وفيها عوج وفي رواية لمسلم ان المراة خلقت من ضلع لن تستقيم لك على طريقة فان استمتعت بها استمتعت بها وفيها عوج وان ذهبت تقيمها كسرتها وكسرها طلاقها

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬২৪

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত

 

(২৬২৪) আব্দুল্লাহ ইবনে যামআহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খুৎবাহ দিতে শুনলেন। তিনি (খুৎবার মাধ্যমে) (সালেহ নবীর) উঁটনী এবং ঐ ব্যক্তির কথা আলোচনা করলেন, যে ঐ উঁটনীটিকে কেটে ফেলেছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন তাদের মধ্যকার সর্বাধিক হতভাগ্য ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠল। (সূরা শামস ১২) (অর্থাৎ) উঁটনীটিকে মেরে ফেলার জন্য নিজ বংশের মধ্যে এক দুরন্ত চরিত্রহীন প্রভাবশালী ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠেছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের কথা আলোচনা করলেন এবং তাদের ব্যাপারে উপদেশ প্রদান করলেন। তিনি বললেন, তোমাদের কেউ কেউ তার স্ত্রীকে দাসদের মত প্রহার করে। অতঃপর সম্ভবতঃ দিনের শেষে তার সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয়। (এরূপ উচিত নয়।) পুনরায় তিনি তাদেরকে বাতকর্মের ব্যাপারে হাসতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, তোমাদের কেউ এমন কাজে কেন হাসে, যে কাজ সে নিজেও করে?

 

وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ زَمْعَةَ أنَّهُ سَمِعَ النَّبيَّ ﷺ يَخْطُبُ وَذَكَرَ النَّاقَةَ وَالَّذِي عَقَرَهَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذ انْبَعَثَ أشْقَاهَا انْبَعَثَ لَهَا رَجُلٌ عَزيزٌ عَارِمٌ مَنيعٌ في رَهْطِهِ ثُمَّ ذَكَرَ النِّسَاءَ فَوعَظَ فِيهنَّ فَقَالَ يَعْمِدُ أحَدُكُمْ فَيَجْلِدُ امْرَأتَهُ جَلْدَ العَبْدِ فَلَعَلَّهُ يُضَاجِعُهَا مِنْ آخِرِ يَومِهِ ثُمَّ وَعَظَهُمْ في ضَحِكِهمْ مِنَ الضَّرْطَةِ وَقالَ لِمَ يَضْحَكُ أَحَدُكُمْ مِمَّا يَفْعَلُ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

 

وعن عبد الله بن زمعة انه سمع النبي ﷺ يخطب وذكر الناقة والذي عقرها فقال رسول الله ﷺ اذ انبعث اشقاها انبعث لها رجل عزيز عارم منيع في رهطه ثم ذكر النساء فوعظ فيهن فقال يعمد احدكم فيجلد امراته جلد العبد فلعله يضاجعها من اخر يومه ثم وعظهم في ضحكهم من الضرطة وقال لم يضحك احدكم مما يفعل متفق عليه

(বুখারী ৪৯৪২, মুসলিম ৭৩৭০)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু যাম‘আহ (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬২৫

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত

 

(২৬২৫) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ঈমানদার পুরুষ যেন কোন ঈমানদার নারী (স্ত্রীকে) ঘৃণা না করে। যদি সে তার একটি আচরণে অসন্তুষ্ট হয়, তবে অন্য আচরণে সন্তুষ্ট হবে।

 

وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا يَفْرَكْ مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةً إنْ كَرِهَ مِنْهَا خُلُقاً رَضِيَ مِنْهَا آخَرَ أَوْ قَالَ غَيْرَهُ رواه مسلم

 

وعن ابـي هريرة قال : قال رسول الله ﷺ لا يفرك مومن مومنة ان كره منها خلقا رضي منها اخر او قال غيره رواه مسلم

(মুসলিম ৩৭২১)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬২৬

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত

 

(২৬২৬) আমর ইবনে আহ্ওয়াস জুশামী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বিদায় হজ্জে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, তিনি সর্বপ্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও স্ত্ততি বর্ণনা করলেন এবং উপদেশ দান ও নসীহত করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, শোনো! তোমরা স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার কর। কেননা, তারা তোমাদের নিকট কয়েদী। তোমরা তাদের নিকটে এ (শয্যা-সঙ্গিনী হওয়া, নিজের সতীত্ব রক্ষা করা এবং তোমাদের মালের রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি) ছাড়া অন্য কোনও জিনিসের অধিকার রাখ না। হ্যাঁ, সে যদি কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতার কাজ করে (তাহলে তোমরা তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার রাখ)। সুতরাং তারা যদি এমন কাজ করে, তবে তাদেরকে বিছানায় আলাদা ছেড়ে দাও এবং তাদেরকে মার। কিন্তু সে মার যেন যন্ত্রণাদায়ক না হয়। অতঃপর তারা যদি তোমাদের অনুগত হয়ে যায়, তবে তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। মনে রাখ, তোমাদের স্ত্রীদের উপর তোমাদের অধিকার রয়েছে, অনুরূপ তোমাদের উপর তোমাদের স্ত্রীদের অধিকার রয়েছে। তোমাদের অধিকার হল, তারা যেন তোমাদের বিছানায় ঐ সব লোককে আসতে না দেয়, যাদেরকে তোমরা অপছন্দ কর এবং তারা যেন ঐ সব লোককে তোমাদের বাড়ীতে প্রবেশ করার অনুমতি না দেয়, যাদেরকে তোমরা অপছন্দ কর। আর শোনো! তোমাদের উপর তাদের অধিকার এই যে, তাদেরকে ভালোরূপে খেতে-পরতে দেবে। (তিরমিযী ১১৬৩, ৩০৮৭)

 

وَعَنْ عَمْرِو بنِ الأحوَصِ الجُشَمِي أنَّهُ سَمِعَ النَّبيّ ﷺ في حَجَّةِ الوَدَاعِ يَقُوْلُ بَعْدَ أنْ حَمِدَ الله تَعَالٰـى وَأثْنَى عَلَيهِ وَذَكَّرَ وَوَعظَ ثُمَّ قَالَ ألا وَاسْتَوصُوا بالنِّساءِ خَيْراً فَإِنَّمَا هُنَّ عَوَانٍ عِنْدَكُمْ لَيْسَ تَمْلِكُونَ مِنْهُنَّ شَيْئاً غَيْرَ ذلِكَ إلاَّ أنْ يَأتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ فَإنْ فَعَلْنَ فَاهْجُرُوهُنَّ في المَضَاجِع وَاضْرِبُوهُنَّ ضَرباً غَيْرَ مُبَرِّحٍ فإنْ أطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيهنَّ سَبِيْلًا ؛ ألاَ إنَّ لَكُمْ عَلٰى نِسَائِكُمْ حَقّاً وَلِنِسَائِكُمْ عَلَيْكُمْ حَقّاً ؛ فَحَقُّكُمْ عَلَيهِنَّ أنْ لا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ مَنْ تَكْرَهُونَ وَلَا يَأْذَنَّ في بُيُوتِكُمْ لِمَنْ تَكْرَهُونَ ؛ ألَا وَحَقُّهُنَّ عَلَيْكُمْ أنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ في كِسْوَتِهنَّ وَطَعَامِهنَّ رواه الترمذي وَقالَ حديث حسن صحيح

 

وعن عمرو بن الاحوص الجشمي انه سمع النبي ﷺ في حجة الوداع يقول بعد ان حمد الله تعالـى واثنى عليه وذكر ووعظ ثم قال الا واستوصوا بالنساء خيرا فانما هن عوان عندكم ليس تملكون منهن شيىا غير ذلك الا ان ياتين بفاحشة مبينة فان فعلن فاهجروهن في المضاجع واضربوهن ضربا غير مبرح فان اطعنكم فلا تبغوا عليهن سبيلا ؛ الا ان لكم على نساىكم حقا ولنساىكم عليكم حقا ؛ فحقكم عليهن ان لا يوطىن فرشكم من تكرهون ولا ياذن في بيوتكم لمن تكرهون ؛ الا وحقهن عليكم ان تحسنوا اليهن في كسوتهن وطعامهن رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح

* ‘কয়েদী’ অর্থাৎ বন্দিনী। স্বামীর হুকুম পালনের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীকে বন্দিনীর সাথে তুলনা করেছেন। ‘যন্ত্রণাদায়ক না হয়’ অর্থাৎ, তাতে কেটে-ফুটে না যায় এবং কঠিন ব্যথা না হয়। ‘অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না’ অর্থাৎ, এমন পথ অনুসন্ধান করো না, যাতে তাদেরকে নাজেহাল ক’রে কষ্ট দাও। (অথবা তালাক ইত্যাদি দেওয়ার কথা ভেবো না।)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবুল আহওয়াস (রহঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬২৭

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত

 

(২৬২৭)জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহিলাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। কারণ, তাদেরকে তোমরা আল্লাহর আমানত হিসাবে গ্রহণ করেছ। আল্লাহর বাক্যের সাহায্যে তাদের লজ্জাস্থানকে বৈধ করেছ। তাদের উপর তোমাদের অধিকার হল, তারা এমন কাউকে তোমাদের বিছানা মাড়াতে দেবে না, যাকে তোমরা অপছন্দ কর। এমন করলে তাদেরকে হালকাভাবে প্রহার কর। আর প্রচলিত নিয়মে তাদের খাওয়া-পরার দায়িত্ব তোমাদের উপর।

 

عن جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اتَّقُوا اللهَ فِى النِّسَاءِ فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانِ اللهِ وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللهِ وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ فَإِنْ فَعَلْنَ ذٰلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ

 

عن جابر بن عبد الله قال قال رسول الله ﷺ اتقوا الله فى النساء فانكم اخذتموهن بامان الله واستحللتم فروجهن بكلمة الله ولكم عليهن ان لا يوطىن فرشكم احدا تكرهونه فان فعلن ذلك فاضربوهن ضربا غير مبرح ولهن عليكم رزقهن وكسوتهن بالمعروف

(মুসলিম ৩০০৯)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬২৮

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত

 

(২৬২৮) মুআবিয়াহ ইবনে হাইদাহ (রাঃ) বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললাম, ’হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কারো স্ত্রীর অধিকার স্বামীর উপর কতটুকু?’ তিনি বললেন, ’’তুমি খেলে তাকে খাওয়াবে এবং তুমি পরলে তাকে পরাবে। (তার) চেহারায় মারবে না, তাকে ’কুৎসিত হ’ বলবে না এবং তার থেকে পৃথক থাকলে বাড়ীর ভিতরেই থাকবে।’’ (অর্থাৎ অবাধ্য স্ত্রীকে বাধ্য করার জন্য বিছানা পৃথক করতে পারা যাবে, কিন্তু রুম পৃথক করা যাবে না।) (আবূ দাউদ ২১৪৪-২১৪৫)

 

وَعَن مُعَاوِيَةَ بنِ حَيدَةَ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُوْلَ الله مَا حَقُّ زَوجَةِ أَحَدِنَا عَلَيهِ ؟ قَالَ أنْ تُطْعِمَهَا إِذَا طعِمْتَ وَتَكْسُوهَا إِذَا اكْتَسَيْتَ وَلَا تَضْرِبِ الوَجْهَ وَلَا تُقَبِّحْ وَلَا تَهْجُرْ إلاَّ في البَيْتِ حديثٌ حسنٌ رواه أَبُو داود وَقالَ : معنى لَا تُقَبِّحْ أي : لَا تقل : قبحكِ الله

 

وعن معاوية بن حيدة قال : قلت : يا رسول الله ما حق زوجة احدنا عليه ؟ قال ان تطعمها اذا طعمت وتكسوها اذا اكتسيت ولا تضرب الوجه ولا تقبح ولا تهجر الا في البيت حديث حسن رواه ابو داود وقال : معنى لا تقبح اي : لا تقل : قبحك الله

* ‘কুৎসিত’ বলবে নাঃ অর্থাৎ, ‘আল্লাহ তোমাকে কুৎসিত করুক’ বলে অভিশাপ দেবে না।

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬২৯

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত

 

(২৬২৯) ইয়াস ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে প্রহার করবে না। পরবর্তীতে উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ’মহিলারা তাদের স্বামীদের উপর বড় দুঃসাহসিনী হয়ে গেছে।’ সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রহার করার অনুমতি দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারের নিকট বহু মহিলা এসে নিজ নিজ স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আরম্ভ করল। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মুহাম্মাদের পরিবারের নিকট প্রচুর মহিলাদের সমাগম, যারা তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। (জেনে রাখ, মারকুটে) ঐ (স্বামী)রা তোমাদের মধ্যে ভালো মানুষ নয়।

 

وَعَنْ إِيَاسِ بنِ عَبدِ اللهِ بنِ أَبِـيْ ذِبَابٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا تَضْرِبُوا إمَاء الله فجاء عُمَرُ إِلٰـى رسولِ الله ﷺ فَقَالَ : ذَئِرْنَ النِّسَاءُ عَلٰى أزْوَاجِهِنَّ فَرَخَّصَ في ضَرْبِهِنَّ فَأطَافَ بآلِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ نِسَاءٌ كَثيرٌ يَشْكُونَ أزْواجَهُنَّ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَقَدْ أطَافَ بِآلِ بَيتِ مُحَمَّدٍ نِسَاءٌ كثيرٌ يَشْكُونَ أزْوَاجَهُنَّ لَيْسَ أولَئكَ بخيَارِكُمْ رواه أَبُو داود بإسناد صحيح

 

وعن اياس بن عبد الله بن ابـي ذباب قال: قال رسول الله ﷺ لا تضربوا اماء الله فجاء عمر الـى رسول الله ﷺ فقال : ذىرن النساء على ازواجهن فرخص في ضربهن فاطاف بال رسول الله ﷺ نساء كثير يشكون ازواجهن فقال رسول الله ﷺ لقد اطاف بال بيت محمد نساء كثير يشكون ازواجهن ليس اولىك بخياركم رواه ابو داود باسناد صحيح

(আবূ দাউদ ২১৪৮)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ ইয়াস (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬৩০

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত

 

(২৬৩০) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে কাউকে প্রহার করেননি; না কোন স্ত্রীকে, আর না-ই কোন দাস-দাসীকে। অবশ্য আল্লাহর রাস্তায় তিনি জিহাদ করেছেন। তাঁর প্রতি কেউ অন্যায় করলে কোনদিন তার প্রতিশোধ নেননি। অবশ্য আল্লাহর হারামকৃত কোন জিনিসের লংঘন হলে, তিনি আল্লাহ তাআলার জন্য প্রতিশোধ নিতেন।

 

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا ضَرَبَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ شَيْئًا قَطُّ بِيَدِهِ وَلَا امْرَأَةً وَلَا خَادِمًا إِلاَّ أَنْ يُجَاهِدَ فِى سَبِيلِ اللهِ وَمَا نِيلَ مِنْهُ شَىْءٌ قَطُّ فَيَنْتَقِمَ مِنْ صَاحِبِهِ إِلاَّ أَنْ يُنْتَهَكَ شَىْءٌ مِنْ مَحَارِمِ اللهِ فَيَنْتَقِمَ لِلهِ عَزَّ وَجَلَّ

 

عن عاىشة قالت ما ضرب رسول الله ﷺ شيىا قط بيده ولا امراة ولا خادما الا ان يجاهد فى سبيل الله وما نيل منه شىء قط فينتقم من صاحبه الا ان ينتهك شىء من محارم الله فينتقم لله عز وجل

(মুসলিম ৬১৯৫)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬৩১

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত

 

(২৬৩১) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সেই, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। আর আমি নিজ স্ত্রীর নিকট তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তি।

 

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ؛ عن النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لأَهْلِى

 

عن ابن عباس ؛ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال خيركم خيركم لاهله، وانا خيركم لاهلى

(ইবনে মাজাহ ১৯৭৭, সহীহুল জামে’ ৩৩১৪)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬৩২

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত

 

(২৬৩২) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মু’মিনদের মধ্যে সবার চেয়ে পূর্ণ মু’মিন ঐ ব্যক্তি যে চরিত্রে সবার চেয়ে সুন্দর, আর তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি, যে নিজের স্ত্রীর জন্য সর্বোত্তম।

 

وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أكْمَلُ المُؤمِنِينَ إيمَاناً أحْسَنُهُمْ خُلُقاً، وخِيَارُكُمْ خِيَارُكُم لِنِسَائِهِمْ رواه الترمذي وَقالَ حديث حسن صحيح

 

وعن ابـي هريرة قال : قال رسول الله ﷺ اكمل المومنين ايمانا احسنهم خلقا، وخياركم خياركم لنساىهم رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح

(তিরমিযী ১১৬২)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬৩৩

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত

 

(২৬৩৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে আল্লাহ! আমি দুই দুর্বল; এতীম ও নারীর অধিকার নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে পাপ হওয়ার কথা ঘোষণা করছি।

 

عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أُحَرِّجُ حَقَّ الضَّعِيفَيْنِ الْيَتِيمِ وَالْمَرْأَةِ

 

عن ابـي هريرة عن النبي ﷺ قال اللهم اني احرج حق الضعيفين اليتيم والمراة

(আহমাদ ৯৬৬৬, ইবনে মাজাহ ৩৬৭৮)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬৩৪

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ

 

আল্লাহ তাআলা বলেন,

 

وَعَلَـى الْمَوْلُوْدِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ

 

অর্থাৎ, জনকের কর্তব্য যথাবিধি তাদের ভরণপোষণ করা। (সূরা বাক্বারাহ ২৩৩)

 

তিনি আরো বলেন,

 

لِيُنْفِقْ ذُوْ سَعَةٍ مِنْ سَعَتِهِ وَمَنْ قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنْفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللهُ لَا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا

 

অর্থাৎ, সামর্থ্যবান নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে এবং যার জীবনোপকরণ সীমিত সে আল্লাহ যা দান করেছেন, তা হতে ব্যয় করবে। আল্লাহ যাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, তার চেয়ে গুরুত্বর বোঝা তিনি তার উপর চাপান না। (সূরা ত্বালাক্ব ৭)

 

তিনি অন্যত্র বলেন,

 

وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِّنْ شَيْءٍ فَهُوَ يُـخْلِفُهُ

 

অর্থাৎ, তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তিনি তার বিনিময় দেবেন। (সূরা সাবা’ ৩৯)

 

(২৬৩৪) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় কর, এক দীনার ক্রীতদাস মুক্ত করার কাজে ব্যয় কর, এক দীনার কোন মিসকীনকে সদকাহ কর এবং এক দীনার তুমি পরিবার পরিজনের জন্য ব্যয় কর। এ সবের মধ্যে ঐ দীনারের বেশী নেকী রয়েছে যেটি তুমি পরিবার-পরিজনের উপর ব্যয় করবে।

 

وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ دِينَارٌ أنْفَقْتَهُ في سَبيلِ اللهِ وَدِينار أنْفَقْتَهُ في رَقَبَةٍ وَدِينارٌ تَصَدَّقْتَ بِهِ عَلٰى مِسْكِينٍ وَدِينَارٌ أنْفَقْتَهُ عَلٰى أهْلِكَ أعْظَمُهَا أجْراً الَّذِي أنْفَقْتَهُ عَلٰى أهْلِكَ رواه مسلم

 

وعن ابـي هريرة قال : قال رسول الله ﷺ دينار انفقته في سبيل الله ودينار انفقته في رقبة ودينار تصدقت به على مسكين ودينار انفقته على اهلك اعظمها اجرا الذي انفقته على اهلك رواه مسلم

(মুসলিম ২৩৫৮)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬৩৫

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ

 

(২৬৩৫) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্বাধীনকৃত গোলাম আবূ আব্দুল্লাহ মতান্তরে আবু আব্দুর রহমান সাওবান ইবনে বুজদুদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (সওয়াবের দিক দিয়ে) সর্বশ্রেষ্ঠ দীনার সেইটি, যে দীনারটি মানুষ নিজ সন্তান-সন্ততির উপর ব্যয় করে, যে দীনারটি আল্লাহর রাস্তায় তার সওয়ারীর উপর ব্যয় করে এবং সেই দীনারটি যেটি আল্লাহর পথে তার সঙ্গীদের পিছনে খরচ করে।

 

وَعَنْ أَبِـيْ عَبدِ اللهِ وَيُقَالُ لَهُ : أَبُوْ عَبدِ الرَّحمَانِ ثَوبَانَ بنِ بُجْدُد مَوْلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أفْضَلُ دِيْنَارٍ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ : دِينَارٌ يُنْفِقُهُ عَلٰى عِيَالِهِ وَدينَارٌ يُنْفِقُهُ عَلٰى دَابَّتِهِ في سَبيلِ الله وَدِينارٌ يُنْفِقُهُ عَلٰى أصْحَابهِ في سَبيلِ اللهِ رواه مسلم

 

وعن ابـي عبد الله ويقال له : ابو عبد الرحمان ثوبان بن بجدد مولى رسول الله ﷺ قال : قال رسول الله ﷺ افضل دينار ينفقه الرجل : دينار ينفقه على عياله ودينار ينفقه على دابته في سبيل الله ودينار ينفقه على اصحابه في سبيل الله رواه مسلم

(মুসলিম ২৩৫৭)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬৩৬

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ

 

(২৬৩৬) উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, একদা আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রসূল! আমি যদি (আমার প্রথম স্বামী) আবূ সালামাহর সন্তান-সন্ততির উপর ব্যয় করি, তাতে কি আমি নেকী পাব? আমি তো তাদেরকে এভাবে ছেড়ে দিতে পারছি না, তারা তো আমারই সন্তান।’ তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি তাদের উপর ব্যয় করার দরুন নেকী পাবে।

 

وَعَن أمِّ سَلمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : قُلْتُ : يَا رَسُوْلَ اللهِ هَلْ لِي أَجرٌ فِي بَنِي أَبِـيْ سَلَمَة أنْ أُنْفِقَ عَلَيْهِمْ وَلَسْتُ بِتَارِكَتِهِمْ هكَذَا وَهكَذَا إنَّمَا هُمْ بَنِيّ ؟ فَقَالَ نَعَمْ لَكِ أجْرُ مَا أنْفَقْتِ عَلَيْهِمْ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

 

وعن ام سلمة رضي الله عنها قالت : قلت : يا رسول الله هل لي اجر في بني ابـي سلمة ان انفق عليهم ولست بتاركتهم هكذا وهكذا انما هم بني ؟ فقال نعم لك اجر ما انفقت عليهم متفق عليه

(বুখারী ১৪৬৭, ৫৩৬৯, মুসলিম ২৩৬৭)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ উম্মু সালামাহ (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬৩৭

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ

 

(২৬৩৭) সা’দ ইবনে আবী অক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি তাঁর দীর্ঘ হাদীসে বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তুমি যা ব্যয় করবে, তোমাকে তার বিনিময় দেওয়া হবে। এমনকি তুমি যে গ্রাস তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও তারও বিনিময় তুমি পাবে!

 

وَعَن سَعدِ بنِ أَبِـيْ وَقَّاصٍ في حَدِيثِهِ الطَّوِيلِ الَّذِي في بَابِ النِّيَةِ : أنَّ رَسُوْلَ الله ﷺ قَالَ لَهُ وَإنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللهِ إلاَّ أُجِرْتَ بِهَا حَتّٰـى مَا تَجْعَلُ فِيْ فِيِّ امْرَأَتِك مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

 

وعن سعد بن ابـي وقاص في حديثه الطويل الذي في باب النية : ان رسول الله ﷺ قال له وانك لن تنفق نفقة تبتغي بها وجه الله الا اجرت بها حتـى ما تجعل في في امراتك متفق عليه

(বুখারী ১২৯৫, মুসলিম ৪২৯৬)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬৩৮

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ

 

(২৬৩৮) আবূ মাসউদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’’সওয়াবের আশায় কোন ব্যক্তি যখন তার পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করে, তখন তা সাদকাহ হিসাবে গণ্য হয়।’’ (বুখারী ৫৫,৫৩৫১, মুসলিম ২৩৬৯)

 

وعَنْ أَبِـيْ مَسْعُـودٍ الْبَدْرِي عَـنِ النَّبيّ ﷺ قَالَ إِذَا أنْـفَـقَ الرَّجُلُ عَلٰـى أَهْلِهِ نَـفَـقَـةً يَـحْتَسِبُهَا فَـهِـيَ لَـهُ صَدَقَـةٌ

 

وعن ابـي مسعـود البدري عـن النبي ﷺ قال اذا انـفـق الرجل علـى اهله نـفـقـة يـحتسبها فـهـي لـه صدقـة

(বুখারী ৫৫,৫৩৫১, মুসলিম ২৩৬৯)

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ উকবাহ ইবনু আমির (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য



২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬৩৯

বাংলা/আরবী

 পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ

 

(২৬৩৯) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একটি মানুষের পাপী হওয়ার জন্য এটা যথেষ্ট যে, সে তাদের (অধিকার) নষ্ট করবে (অর্থাৎ, তাদের ভরণপোষণে কার্পণ্য করবে) যাদের জীবিকার জন্য সে দায়িত্বশীল। (আহমাদ, আবূ দাউদ ১৬৯২, হাকেম, বাইহাকী, সহীহুল জামে’ ৪৪৮১)

 

উক্ত অর্থ সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,) মানুষের পাপী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যার খাদ্যের মালিক, তার খাদ্য সে আটকে রাখে। (মুসলিম ২৩৫৯)

 

وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كَفَى بِالمَرْءِ إثْمَاً أنْ يُضَيِّعَ مَنْ يَقُوتُ حديث صحيح رواه أَبُو داود وغيره

وَرَوَاهُ مُسلِمٌ في صَحِيحِهِ بِمَعنَاهُ قَالَ كَفَى بِالمَرْءِ إثْمَاً أنْ يحْبِسَ عَمَّنْ يَمْلِكُ قُوتَهُ

 

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال : قال رسول الله ﷺ كفى بالمرء اثما ان يضيع من يقوت حديث صحيح رواه ابو داود وغيره ورواه مسلم في صحيحه بمعناه قال كفى بالمرء اثما ان يحبس عمن يملك قوته

 হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ)  পুনঃনিরীক্ষণঃ   হাদীস সম্ভার  ২৪/ বিবাহ ও দাম্পত্য

 ২৬৪০

বাংলা/আরবী

যোগাযোগ

সরাসরি WhatsApp-এ যোগাযোগ করুন:

Asadullah

Raipura, Narsingdi, Bangladesh
MBBS Session: 2020-21

Founder-Chairman, MD, Directorate Head, Owner, CEO, Consultant
Doctor’s Matrimony BD, Doctor Consultancy,
and Asadullah TV.BD

Founder Member & Director:
Narsingdi Helth Services & Research Center
Narsingdi Medical College Hospital

Phone: +880 1568-318976
Email: drasadullahmedicalconsultant@gmail.com